আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশ নেয়া না নেয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনে কোন দল আসবে আর কোন দল আসবে না সেটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত।
‘‘দেশে অনেক রাজনৈতিক দল আছে, দু’একটি কি করলো না করলো এগুলো নিয়ে চিন্তা করছেন কেন?’’
জাতিসংঘের ৭৩তম অধিবেশন থেকে দেশে ফেরার দুইদিন পর বুধবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: আপনারা কাদের জন্য চিন্তিত? যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, তাদের জন্য? ৩৯০০জন মানুষের শরীরে আগুন দিয়েছে। এর মধ্যে অনেকে তো মারা গেছেন, চলে গেছেন। কিন্তু যারা পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছে তাদের কি অবস্থা। আপনারা সাংবাদিকরা তাদের কখনও খোঁজ নিয়েছেন? ঘটনার প্রথম দিকে রিপোর্ট করেছেন।
‘‘জিনিস গেলে তো জিনিস পাওয়া যায়। কিন্তু জীবন গেলে জীবন পাওয়া যায় না। গাছ কেটেছে আবারও গাছ লাগিয়েছি, কিন্তু যারা পরিবার হারিয়েছে তারা তাদের স্বজনকে কি ফিরে পেয়েছে? যারা এতিমের টাকা মেরে খায়, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হয় তাদের জন্য কান্না-কাটি কেন?’’
শেখ হাসিনা যোগ করে বলেন: আমরা দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়নটা অব্যহত থাকে। নৌকায় যারা আসবে তারাই উন্নয়ন করবে। অন্য কেউ করবে না।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন: জোট হচ্ছে এজন্য আমি খুশি। তাদের এগিয়ে যেতে যা যা প্রয়োজন আমি করে দিবো। এদেশের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত। একভাগ আওয়ামী লীগের অন্যভাগ আওয়ামী লীগ বিরোধী। এই আওয়ামী বিরোধী ভোটটা তো কোথাও যেতে হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ গ্রহণে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোন কথা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: বিশ্ব নেতাদের আমি বলে এসেছি, জনগণ আমাদের ভোট দিলে আসব না চাইলে নাই। যাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে সকলেই আমাকে শুভ কামনা জানিয়েছে। তারা চায় যেন আবারও যেন তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি নিজে থেকে নির্বাচন নিয়ে কারও সঙ্গে তেমন একটা কথা বলিনি।
শেখ হাসিনা বলেন: বাংলাদেশ ষড়যন্ত্রের উর্বর ভূমি। দেশের মানুষ যখন ভালো থাকে কারও কারও ভালো লাগে না। গত সাড়ে নয়, প্রায় দশ বছরে অন্যায়টা আমি কি করেছি? যে আমাদের এখনই চলে যেতে হবে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু এরপর আমরাই সব থেকে বেশি উন্নয়য়ন করে গেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে পথ দেখিয়েছিলেন সেটাকেই আমরা এগিয়ে নিয়েছি।
‘‘নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলবো আমাদের এতো উন্নয়ন, আমরা আবারও পাস করবো; এমন আত্মবিশ্বাস রাখা যাবে না। বাংলাদেশ উন্নত সভ্যদেশ হলে এটা বলা যেত। আমাদের দেশে এমন একটা দেশ ছিল যে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি এটা বলা যেত না। আমরা বিজয়ী জাতি হওয়ার পরও পরাজাতিদের হাতের পুতুল ছিলাম। আমি সেখান থেকে দেশকে বের করে এনেছি। আমার কাজ আমি করেছি। এখন অন্যদের দায়িত্ব নিয়ে বাকিটা এগিয়ে নিতে হবে।’’







