অর্থনীতি

নিরাপদ কর্মস্থলের নিশ্চয়তা চান গার্মেন্টস শ্রমিকরা

নিরাপদ কর্মস্থলের নিশ্চয়তা চান গার্মেন্টস শ্রমিকরা

নিরাপদ কর্মস্থলের নিশ্চয়তা দাবি করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বলেছেন, বাংলাদেশে তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ড বা রানা প্লাজা ধ্বসের মতো আর কোনো গার্মেন্টসে যেন দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

একইসঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ও ছুটির বিষয়গুলো নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতকরণের দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

তাজরীন গার্মেন্টেসে অগ্নিকাণ্ডের ৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

এতে সংগঠনের সভাপতি সুলতানা বেগমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- শ্রমিককর্মী ঐক্য পরিষদের জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, কার্যকরী সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন প্রমুখ।

মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা বলেন, দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিকের মৃত্যু হলে শ্রম আইনের দোহাই দিয়ে পরিবারকে মাত্র এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সেটা বাড়িয়ে এখন দুই লাখ করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। অথচ বর্তমান সময়ে দুই লাখ টাকায় কী হয়, যেখানে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিই থাকেন না!

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় গার্মেন্টস খাত থেকে আসলেও এই খাতের শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত-এমন অভিযোগ করে তারা বলেন, সরকারি আমলা-মন্ত্রীরা যেখানে লাখ লাখ টাকা নিয়েও সংসার চালাতে হিমশিম খান, সেখানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন মাত্র আট হাজার টাকা। আর এখন তো বেতন বাড়লে মূল বেতন বাড়ে না, শুধু যোগ হয় ভাতা! ফলে চাকরির শেষ সময়েও একজন শ্রমিককে অনেক কষ্টে বাকি জীবন কাটাতে হয়।

শ্রমিক নেতারা বলেন, সরকারি চাকরিজীবী মায়েরা যেখানে মাতৃত্বকালীন ছুটি পায় ৬ মাস, সেখানে গার্মেন্টস শ্রমিকরা পায় মাত্র ১৬ সপ্তাহ। একইসঙ্গে এসময় তাদের বেতনও ঠিকমতো পরিশোধ করা হবে কি না, তা নিয়েও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকে।

বক্তারা বলেন, সত্যিকার অর্থে দেশের উন্নয়ন যাত্রাকে আরো গতিশীল করতে হলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে হবে। মালিকরা রক্ত শোষণ করবেন আর শ্রমিকরা রক্তশূন্যতায় ভুগবে, এটা হতে পারে না।

মানববন্ধনে তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের ছয় বছর পূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত ওই ঘটনার প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ না করার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে অবিলম্বে নিহত শ্রমিক পরিবার ও আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনসহ সব গার্মেন্টসে শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

এসময় তারা তাজরীন গার্মেন্টেসে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১২ শ্রমিককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়া নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত তাজরীন গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় ১১২ শ্রমিক নিহত ও শতাধিক শ্রমিক আহত হয়। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পোশাক কারখানার নয়তলা ভবনের ছয়তলার আগুনে ভস্মীভূত হয়।

বিষয়:তাজরীন তৈরি পোশাক কারখানা পোশাক রপ্তানি পোশাক শ্রমিক

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…