এসিসি ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ খেলতে পাকিস্তান যাচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। সোমবার দেশটির উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়ার আগে টাইগারদের ইমার্জিং-অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান জানালেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় তার দল। মূল ভাবনা পরের রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করা।
২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার টিম বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসিত হয় পাকিস্তান থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক দল কড়া নিরাপত্তার মাঝে সফর করেছে দেশটিতে। নির্বাসিত সময়টাতে জাতীয় দল না হলেও বাংলাদেশের ছেলেদের কোনো দল এই প্রথম সফরে যাচ্ছে পাকিস্তানে। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে গিয়েছিল সেখানে।
একদিকে নিরাপত্তা শঙ্কা কাটেনি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক দলগুলো এখনো খেলতে রাজি নয় পাকিস্তানে। এই ইমার্জিং কাপেই যেমন একটি গ্রুপ খেলবে যৌথ আয়োজক শ্রীলঙ্কার মাটিতে। স্বাগতিকরা ছাড়াও শক্তিশালী ভারত আছে ওই গ্রুপে। সেখানে বাংলাদেশের গ্রুপপর্বের সব ম্যাচ করাচিতে।
সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথমবার পাকিস্তানে খেলতে যাওয়ার আগে তাই নিরাপত্তা নিয়ে গতানুগতিক দুশ্চিন্তা থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সোহান সেই ভাবনার ভার ছেড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও আয়োজক পাকিস্তানের উপর।
‘আসলে নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। খেলতে যাচ্ছি। আমাদের পরপর ম্যাচ আছে। আসলে প্রধান ও প্রথম লক্ষ্য থাকবে, প্রথম রাউন্ডে ভালো করে যেন পরের রাউন্ডে যেতে পারি। নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের কারোরই মাথাব্যথা নেই। যেহেতু বোর্ড কথা বলেই সব ঠিক করেছে, আমরা হয়তো সর্বোচ্চ নিরাপত্তটাই পাবো।’ সোমবার সংবাদ মাধ্যমকে এমনটাই বলেছেন সোহান।
মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ দল হলেও চারজন করে সিনিয়র ক্রিকেটার খেলতে পারবেন ইমার্জিং কাপে। অধিনায়কসহ টাইগারদের অর্ধেক ক্রিকেটারেরই আছে জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতাকে আরও পোক্ত করতে ও জাতীয় দলে ফেরার রাস্তা প্রশস্ত করতে এই টুর্নামেন্টকে সেরা সুযোগ বলে মনে করছেন ইমার্জিং দলের সঙ্গী হওয়া নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
‘ওদের জন্য এটা সেরা সুযোগ। আগের বছর আমরা যে ইমার্জিং কাপ খেলেছিলাম, তার অভিজ্ঞতাও খুব ভালো ছিল। এখানেও ওদের অভিজ্ঞতা পাওয়ার খুব ভালো সুযোগ আছে। কয়েকজন খেলোয়াড় নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। এপর্যায়ে তারা কেমন খেলছে সেটা দেখতে পাবো। প্রতিপক্ষ দলগুলো খুবই শক্তিশালী। গতবারও বেশ শক্তিশালী দল পাঠিয়েছিল অন্য দেশগুলি। খুব ভালো প্রতিযোগিতা হবে, আশা করি আমরা ভালো খেলবো। আমাদের এখানে বেশকিছু ভালো খেলোয়াড় আছে যারা ভবিষ্যতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে বলে আশা করছি।’
২৩ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে টাইগার ইমার্জিং দলে আছেন শফিউল, খালেদ, মিজানুর ও অধিনায়ক সোহান। দলে অভিজ্ঞদের সঙ্গে তরুণ ক্রিকেটারদের মিশেল। বাশারের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আবহটা কেমন সে সম্পর্কেও এই টুর্নামেন্ট থেকে ধারণা পেতে পারে অনভিজ্ঞরা।
‘যেকোনো টুর্নামেন্টই খুব প্রতিযোগিতামূলক হয়। গতবার বাংলাদেশে যে টুর্নামেন্টটা হয়েছিল, বেশ ভালো প্রতিযোগিতা হয়েছিল। প্রায় আন্তর্জাতিক ম্যাচের একটা সুবাস পাওয়া যায় এখানে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ কেমন হতে পারে তার একটা নমুনা পাওয়া যায় এ টুর্নামেন্ট থেকে।’
‘আমাদের এই দলে কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে, জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেমন হতে পারে, কতটুকু চাপ থাকে, এই অভিজ্ঞতাটুকু নেয়ার খুব ভালো একটা সুযোগ থাকছে। আমি খুব আশাবাদী, এখানে খেলে অনেকে নিজেকে প্রমাণিত করতে পারবে।’
ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপের গত আসরের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। এবার যৌথভাবে আয়োজন করছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আগামী ৬ ডিসেম্বর করাচিতে শুরু হবে টুর্নামেন্ট, কলম্বোতে ফাইনাল ১৫ ডিসেম্বর।
টুর্নামেন্টে অংশ নেবে আটটি দেশ। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের তিন ম্যাচই করাচিতে। যেখানে টাইগারদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক পাকিস্তান, হংকং ও আরব আমিরাত। অন্য গ্রুপে খেলবে ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ওমান।
বাংলাদেশ ইমার্জিং দল: নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (সহ-অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, মিজানুর রহমান, শফিউল ইসলাম, জাকির হাসান (উইকেটরক্ষক), সাইফ হাসান, ইয়াসির আলী চৌধুরী, তানভির ইসলাম, আফিফ হোসেন, নাঈম হাসান, শরিফুল ইসলাম, কাজী অনিক ইসলাম, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মোহর শেখ।









