প্রাথমিক স্কুলের দিনগুলো দুঃস্বপ্নের মতো ছিলো ১১ বছর বয়সী ফিল মিকের। প্রতিনিয়ত উত্যক্ত আর নিপীড়নের শিকার হয়ে হাসতে ভুলে গিয়েছিলো সে। এমনকি এ কারণে আত্মহত্যার কথা পর্যন্ত ভেবেছিলো। কিন্তু তার মাধ্যমিক স্কুলের প্রথম দিনটি ছিল একেবারে ব্যতিক্রম।
অর্ধশতাধিকেরও বেশি বাইকের প্রহরায় এদিন নতুন স্কুলে আসে সে। এর ফলে বহুদিন পর সন্তানের মুখে হাসি দেখতে পায় মা ট্যামি মিক। আর স্কুল কর্তৃপক্ষও এমন উদ্যোগকে অভিনন্দন জানায় বলে সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যের ওয়াটারলু শহরে ফিলের নতুন স্কুল ডেকলাব মিডল স্কুল। এদিন বাইকারদের একটি গ্রুপের ৫০ জনের বেশি সদস্য জানায় তারা ফিলের সঙ্গে আছে।
ফিলের মা ট্যামি মিক বলেন, ‘‘ফিল তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২ বছর ধরে উত্যক্ত, আর নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছিলো। ‘মোটা’, ‘বাজে’ সহ বিভিন্ন ধরণের গালাগাল এবং শারীরিক আঘাতসহ নানাভাবে হয়রানি করা হতো তাকে। একদিন সে আমাকে বলে, সে আত্মহত্যা করতে চায়। কিন্তু ফিলের নতুন বন্ধুরা এমনটি হতে দেবে না। তাই বহুদিন পর সন্তানকে হাসতে দেখে আমি তৃপ্ত।’’
ট্যামি মিক জানান, এক বছর আগে ফিলের শরীর জুড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখে এ বিষয়ে জানতে চান তিনি। পড়ে গিয়েছিলো বা অন্য কিছু বলে মূল ঘটনা এড়িয়ে যায় ফিল। কিন্তু শেষ পর্যায়ে ফিল ভেঙ্গে পড়ে। মা তখন তাকে ‘সদয়’ বলে সান্ত্বনা দিলেও ছেলে আত্মহত্যার কথা জানালে আতঙ্কিত হন তিনি।
‘জ্যামস আর. ওয়াটসন প্রাথমিক স্কুলে নিজের উদ্বেগের কথা জানালেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ছিলো উদাসীন। তখন বিষয়টি পারিবারিক বন্ধু ওয়ারফিল্ডকে জানালে এমন অভিনব পরিকল্পনা করেন তারা।’
গত ডিসেম্বরে দরিদ্র দম্পতিদের ক্রিসমাস উপহার দেয়ার একটি অনুষ্ঠানে ব্রেন্ট ওয়ারফিল্ডের সাথে পরিচয় হয় তাদের। ওয়ারফিল্ড ইউনাইটেড মোটরসাইকেল এনথাসিয়াস্টস-এর পরিচালক। গ্রুপটি দাতব্য কাজে রাইডের আয়োজন করে।
ওয়ারফিল্ড সিএনএনকে বলেন, শিশুদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং সম্ভাব্য আত্মহত্যা রুখতে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে ফিলের সঙ্গে যাত্রায় সঙ্গী হতে সামাজিক মাধ্যমে আহ্বান জানানো হলে তাতে বেশি সাড়া পাওয়া যায়।

ফিলের নতুন স্কুল ডেকলাব মিডল স্কুলের প্রিন্সিপাল টেডার্স একে ইতিবাচক বলেছেন। ছাত্রদের সহযোগিতায় বড়দের এগিয়ে আসাকে অভিনন্দন জানান তিনি।
এই ঘটনার পর এখন প্রায় এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও তার মা জানান, ফিলকে আবার হাসতে দেখাটা খুব আনন্দের।








