বাংলাদেশ

নিথর শশী, মায়ের জিজ্ঞাসা: কী বলবো আমি?

নিথর শশী, মায়ের জিজ্ঞাসা: কী বলবো আমি?

বিকেল তখন প্রায় ৫টা, আর্মি স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে বসে বিএস-২১১ এর নিহতদের স্বজনরা অপেক্ষায় আছেন, কখন ফিরবে প্রিয় মানুষেরা। এক বুক বেদনা নিয়ে একমাত্র মেয়ে তাহিরা তানভিন শশীর প্রাণহীন দেহ নিতে মানিকগঞ্জ থেকে আর্মি স্টেডিয়ামে এসেছেন তার মা এবং বাবা।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা ব্যস্ত ভিড় সামলাতে, স্বজনদের বসার ব্যবস্থা করতে এবং নেপাল থেকে লাশ হয়ে ফিরে আসা মানুষদের স্বজনদের লাশ বুঝিয়ে দিতে ফর্ম পূরণ করাতে ব্যস্ত পুলিশ কর্মকর্তারা। সংবাদকর্মীরা কেউ স্বজনদের কথা নোট করছেন, ফটোসাংবাদিকরা ব্যস্ত ছবি তুলতে।

এরই মধ্যে আসরের নামাজের কিছুক্ষণ আগে শশীর মায়ের কাছে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তিনি একবার চ্যানেল আই অনলাইনের এই প্রতিবেদকের দিকে তাকালেন। সে চোখে অপার শূন্যতা। নিজেই প্রতিবেদককে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি কী বলবো, কী বলবো আমি?”

এই প্রশ্নের পর তাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করা সম্ভব হয়নি। তার পাশেই বসে ছিলেন শশীর খালা। তিনি জানান, ঢাকায় পড়ালেখা করায় শশীকে নিজের কাছেই রাখতেন। সেই শশী লাশ হয়ে ফিরলো।

তার পাশে বসে ছিলেন শশীর স্কুল জীবনের বান্ধবী ডা. রেহনুমা খানমের মা এবং একটু দূরেই ডা. রেহনুমা খানম।

শৈশবের বান্ধবীকে শেষ বিদায় জানাতে আসা রেহনুমার মুখে কথা নেই, কেবল দু’চোখের অশ্রু ঝরছিল নিরবে।

বিকাল ৫টা ৩ মিনিট, আর্মি স্টেডিয়ামের ভেতর আসরের নামাজ প্রায় শেষ, বাইরে বাজলো অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। মাঠ ভর্তি মানুষ বুঝলো বিএস-২১১ এর যাত্রীরা এসেছেন।

একে একে ২৩ টি কফিন বয়ে এনে স্টেডিয়ামের অস্থায়ী মঞ্চে নিয়ে আসেন সেনা সদস্যরা। এরপর ৫টা ২৫ মিনিটে শুরু হয় জানাজার নামাজ।

তাহিরা তানভিন শশীর কফিনটি গাড়িতে তুলছেন সেনা সদস্যরা

জানাজা শেষে নিহতদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক প্রদান করা শুরু হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে পুষ্পস্তবক প্রদান করেন তাঁর সামরিক সচিব। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুষ্পস্তবক প্রদান করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তারপর ফুল দিয়ে নিহতদের শেষ বিদায় জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন।

এই আনুষ্ঠানিকতার পর স্বজনদের প্রিয়জনের কফিন ছোঁয়ার প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। মাইকে স্বজনদের ডেকে প্রিয় মানুষের নিথর দেহটি ধারণ করা কফিনটি বুঝিয়ে দেয়া শুরু করে পুলিশ।

এরপর কফিন বহন করে সেনা সদস্যরা স্টেডিয়ামের বাইরে অপেক্ষমান লাশবাহী গাড়িতে তুলে দেয়া শুরু করেন। শশীর নামের স্টিকার দেয়া ৭ নম্বর ভ্যানে তোলা হয় কফিন। ধীরে ধীরে চলতে শুরু করে গাড়িটি।

বিষয়:তাহিরা তানভিন শশী নেপাল নেপালে নিহত বিএস-২১১

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…