নেত্রকোনায় পৌঁছেছে বারী সিদ্দিকীর মরদেহ। এসময় তাকে এক নজর দেখতে ভিড় করে সারাদিন অপেক্ষারত শোকার্ত নেত্রকোনাবাসী।
সদরের সরকারী কলেজের মাঠে তার তৃতীয় জানাজা শেষে নিজ গ্রাম কালিগ্রামের চল্লিশা বাজারে অনুষ্ঠিত হবে চতুর্থ জানাজা। পরে নিজের গড়া ‘বাউল বাড়ি’তে দাফন করা হবে এ গুণী শিল্পীকে।
বৃহস্পতিবার রাত দুইটায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথম এবং সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেত্রকোনার পথে রওয়ানা হয় তার মরদেহ।
শবদেহ বহনকারী গাড়িতে রয়েছেন তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের পরিবার। এদিকে আলাদা গাড়িতে ঢাকা থেকে শবদেহ বহনকারী গাড়ির সঙ্গে গিয়েছেন বারী সিদ্দিকীর একাধিক জনপ্রিয় গানের গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী। সঙ্গে রয়েছেন মেজর তানসেন ও তবলা বাদক এহসানুর রহমান সাদী।
শহীদুল্লাহ ফরায়জী চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, সাড়ে ৪টার দিকে আমরা নেত্রকোনা শহরে পৌঁছেছি। নেত্রকোনা সরকারী কলেজ মাঠে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বিকাল পাঁচটার দিকে।
এদিকে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সরকারি কলেজের মাঠেই বারী সিদ্দিকীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও শুক্রবার সারাদিন মাইকে বিকাল সাড়ে চারটায় জানাজা হবে বলে প্রচার করা হয়েছে। যতদূর জানি, এখানে জানাজার পর শবদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বারী সিদ্দিকীর গ্রামের বাড়িতে। সেখানেও আরেকটি জানাজা শেষে সন্ধ্যায় তাকে দাফন করা হবে।
১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলায় এক সঙ্গীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা বারী সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ১৯ নভেম্বর থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এই শিল্পী।

গুণী এই সঙ্গীতজ্ঞের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছোটবেলা থেকেই। ধ্রুপদ সঙ্গীতে তালিম নেয়া শুরু মাত্র ১২ বছর বয়সে। তালিম নিয়েছেন ওস্তাদ গোপাল দত্ত, ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অনেক গুণীশিল্পীর সান্নিধ্যে থেকে। পরবর্তীকালে ভারতের পুনেতেও নব্বইয়ের দশকে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন।
১৯৯৫ সালে হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় ইমপ্রেসের অনুষ্ঠান ‘রঙের বাড়ই’ এর মাধ্যমে তাঁকে প্রথম গণমাধ্যমে পায় শ্রোতারা। তাঁর আগে ১৯৯৩ সালে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে তাঁর বাসায় বাঁশি শোনাতে গিয়ে প্রথম হুমায়ূনের নজরে আসেন বারী সিদ্দিকী। উকিল মুন্সীর গান ও মরমি গানে ছিল বারী সিদ্দিকীর অসাধারণ দখল।
১৯৯৯ সালে বছর হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে একাই সাতটি গান গেয়ে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীত নিয়ে কাজ করা বারী সিদ্দিকী।
তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘শোয়া চান পাখি আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’।







