‘তিন ফরম্যাটে রাখার পদ্ধতিটা এরকম না যে, কেউ দুই সিরিজ বিশ্রাম নিয়ে নিলে তাকে রাখা যাবে না। কে কোন ফরম্যাট খেলতে চায় এব্যাপারে বোর্ড কথা বলেছে। তারপর বোর্ড একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা কাকে কোন ফরম্যাটে বিবেচনা করতে পারব। সাকিব কিন্তু এখনো কোনো ফরম্যাট থেকে সরে যায়নি। সাকিব এমন মানের খেলোয়াড় যে ও যদি নিজে কোনো ফরম্যাট থেকে সরে না যায়, তাহলে বোর্ড থেকে সরিয়ে দেয়া কঠিন।’
ইচ্ছে মতো ছুটি নেন, ইচ্ছে মতো সিরিজ খেলেন, এমন আলোচনা-সমালোচনার মাঝে কাটছে সাকিব আল হাসানের। এরপরও আগামী এক বছরের জন্য তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তাকে রাখার কারণ এভাবে ব্যাখ্যা করলেন নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও নির্বাচক কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে তারা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
আলোচনা আছে যে, সাকিব ৬ মাস টেস্ট খেলতে চান না। এরপরও তাকে টেস্টের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখা হয়েছে। সেটি নিয়ে রাজ্জাক বললেন, ‘ছয় মাসের ব্যাপারে আপনারা যে কথা বলছেন, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে অফিশিয়াল কোনো তথ্য নেই।’
এ সময় মিনহাজুল আবেদিন বলেন, ‘বোর্ড ওকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্রাম দিয়েছে। সাউথ আফ্রিকা সিরিজ থেকে দিয়েছে। তারপর থেকে পাওয়া যাবে। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে আমরা জানি ও এভেইলেবল আছে তিন ফরম্যাটের জন্য।’
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার পর জাতীয় দলের হয়ে কম ম্যাচ খেলা সাকিব যাননি গত নিউজিল্যান্ড সফরে। এবার পেয়েছেন দুই মাসের ছুটি। চলতি বছর কয়টা ম্যাচ খেলবেন তার নিশ্চয়তা না থাকলেও কেনো তিন ফরম্যাটের বিবেচনায় তিনি?
প্রধান নির্বাচকের বললেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে সাকিব অনেক বড় মাপের। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। সেই হিসেবে ওর কাছ থেকে আমরা সেরাটাই সবসময় চাই। সেজন্য ওকে তিন ফরম্যাটেই রাখা হয়েছে। যেহেতু এই বছর আমাদের অনেক খেলা আছে। আমরা ওর থেকে এই একবছর আরও ভালো কিছু চাচ্ছি।’
ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক যে কারণেই হোক একজন খেলোয়াড় যখন দল ঘোষণার পর না খেলার কথা জানান, তখন নির্বাচক হিসেবে খারাপ লাগার কথাও গোপন করেননি মিনহাজুল।
‘অবশ্যই। কারণ এখানে পরিকল্পনা সবসময় থাকে। পরিকল্পনা করে সিরিজের জন্য দল দেয়া হয়। না যাওয়াটা অবশ্যই ব্যাকফায়ারের মতো হয়। এখন কেউ না গেলে তো জোর করে খেলানো যায় না। সাউথ আফ্রিকা সিরিজে যারা গিয়েছে তারা সামর্থ্যবান, ভালো করবে।’
বিশ্বের অন্য দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে দেখা যায় জাতীয় দলে নিয়মিত খেলা ক্রিকেটারদেরই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখা হয়। বর্তমানে অনিয়মিত হয়ে পড়া সাকিবকে রাখা নিয়ে তাই উঠছে প্রশ্ন।
এ প্রসঙ্গে রাজ্জাক করে বসলেন পাল্টা প্রশ্নই, ‘আপনি যদি সিলেক্টর হতেন, তাহলে কি করতেন? সাকিবকে রাখতেন নাকি বাদ দিতেন?’
তাৎক্ষণিকভাবে মিনহাজুল বলেন, ‘তিন ফরম্যাটেই ২০২২ সালে অনেক খেলা আছে। সেই হিসেবে আমাদের অনেক খেলোয়াড় লাগবে। সেরা খেলোয়াড়কে আমরা সবসময় তিন ফরম্যাটে রাখব। সে যেহেতু চেয়েছে বোর্ড তাকে রেস্ট দিয়েছে।’







