ভিয়েতনামে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘তিন সুঠামদেহী’র সন্ধান করছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিখোঁজের আগে তিন সুঠামদেহী যুবক মারুফ জামানের বাসায় অবস্থান করেন ১৬ মিনিট।
গত সোমবার মেয়েকে আনতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার পর ওই তিন সুঠামদেহী এসেছিলেন মারুফ জামানের বাড়িতে, যা ভবনের সিসি ক্যামেরায়ও ধরা পড়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ধানমণ্ডি থানা পুলিশ ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমণ্ডি জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আব্দুলাহিল কাফি বুধবার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ফুটেজে দেখা গেছে, তিনজন যুবক মাঙ্কি ক্যাপ ও ক্লিনিক্যাল মাস্ক পরে ওই বাসায় ঢুকে কিছু সময়ের মধ্যেই বেরিয়ে যায়। তারা কেউ ক্যামেরার দিকে তাকায়নি। তাদের আনুমানিক বয়স ত্রিশের ওপর। তবে তাদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
সোমবার রাতে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলমুখী তিন শ’ ফুট সড়কে মারুফ জামানের গাড়িটি পাওয়া যায় জানিয়ে আব্দুলাহিল কাফি বলেন: গাড়ি থেকে কয়েকটি হোম মেইড স্যান্ডুইচ আর গাড়ি পরিচালনার কাগজপত্র পাওয়া যায়।
গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র চ্যানেল আই অনলাইনকে জানায়, বাসায় ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত এই তিন সুঠামদেহী ১৬ মিনিট সময় নিয়েছেন। এর মধ্যে বাসার ভেতরে ৮ মিনিটের মতো ছিলেন।

ধানমণ্ডির নিজের ফ্ল্যাটে ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে নিয়ে থাকতেন বিপত্নীক মারুফ; আর থাকতেন দুজন গৃহকর্মী। তাদের একজন ১৪ বছর ও অপর জন প্রায় সাড়ে সাত বছর ধরে মারুফ জামানের বাসায় কাজ করেন।
সামিহা কয়েক সপ্তাহ আগে বড় বোনের কাছে বেড়াতে বেলজিয়াম গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তাকে আনতেই সোমবার সন্ধ্যায় নিজের গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দর রওনা হয়েছিলেন মারুফ। তারপর থেকে তার সন্ধান মিলছে না।
এরপর পুলিশ তদন্তে নামলেও দুই দিনেও এই কূটনীতিকের কোনো সন্ধান পায়নি। নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে তদন্ত করছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটও। পরিবারের দাবি, যতো দ্রুত সম্ভব তাকে উদ্ধার করা হোক।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ধানমন্ডির মারুফ জামানের বাসার নিচে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে বাসার গেটে একটি বিজ্ঞপ্তি রাখা হয়। এতে নিখোঁজ মারুফ জামানের বড় বোন শাহরিনা কামাল ও ছোট ভাই রিফাত জামানের পক্ষ থেকে বলা হয়: সোমবার সন্ধ্যা সাতটা ৪৫ মিনিট নাগাদ বাসার ল্যান্ড ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গৃহপরিচারিকাকে বাসায় তার কম্পিউটার নিতে কেউ একজন আসবেন বলে জানান।

এর কিছুক্ষণ পর রাত আটটা পাঁচ মিনিটের দিকে তিনজন সুঠামদেহী ভদ্রলোক বাসায় এসে তার ল্যাপটপ, বাসার কম্পিউটারের সিপিইউ, ক্যামেরা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এসময় তারা মারুফ জামানের ঘরে তল্লাশিও চালায়। তখন যোগাযোগ করা হলে মারুফ জামানের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
সেসময় থেকে মারুফ জামানের সঙ্গে কোন ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা তার ভবিষ্যত নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন। মারুফ জামানকে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করার দাবি জানানো হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।
ভিয়েতনামের নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিখোঁজের বিষয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন: নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে। আমরাও ঘটনাটি তদন্ত করছি।







