হারলে ঝুলে যেত সেমিফাইনালের স্বপ্ন। তাকিয়ে থাকতে হত বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে। ইংল্যান্ড এত জটিলতার মধ্যে গেলই না। নিউজিল্যান্ডকে ১১৯ রানে হারিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে উঠে গেল ঘরের মাঠের বিশ্বকাপের শেষ চারে।
সেরা চারে যেখানে আগেই টিকিট কেটেছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। হেরেও অবশ্য নিউজিল্যান্ড সেমির জন্য এগিয়েই! কিন্তু নিশ্চিত হতে শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে কিউইদের। ঐদিন বাংলাদেশ নিজেদের শেষ ম্যাচে নামবে পাকিস্তানের বিপক্ষে। সরফরাজের দল সেদিন জিতলে, সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে রানরেটের বড় পার্থক্যের হিসাব-কিতাব মিলিয়ে ফেললে, সেমিতে যাবে পাকিস্তানই। তবে রানরেটে ভালো অবস্থানে থেকে আপাতত এগিয়ে অপেক্ষায় উইলিয়ামসনরা।
রিভার সাইড গ্রাউন্ডে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩০৫ রান তুলেছিল বিশ্বকাপের স্বাগতিকরা। পরিসংখ্যান বলছিল এই রানই বিশাল নিউজিল্যান্ডের জন্য। কারণ, চলতি আসরে আড়াইশর কাছাকাছি রান হলেই পায়ে কাঁপাকাঁপি লেগে যেত কিউই ব্যাটসম্যানদের। শেষ পর্যন্ত জয় হল পরিসংখ্যানেরই! বিশাল রান তাড়া করতে গিয়ে ১৮৬ রানে অলআউট হয়ে গেছে উইলিয়ামসনের দল।
জিতে এখন সব হিসেবের বাইরে চলে গেছে ইংল্যান্ড। ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্টে পরিষ্কারভাবে সেমিতে, তৃতীয় স্থানে থাকছে তারা। আর হেরেও সুযোগ থাকছে নিউজিল্যান্ডের, তাদের পয়েন্ট ১১, আর সুবিধাজনক রানরেট। এখন পর্যন্ত ধনাত্মক ঘরেই আছে কিউইদের রানরেট।
সেখানে পাকিস্তানের রানরেট ঋণাত্মকের ঘরে। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তান যদি জয়ও পায়, রাদের পয়েন্ট তখন ১১-ও হয়, এই রানরেটই ডোবাবে সরফরাজদের। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে হিসাব ওলটপালট করা জয় তারা তুলে নিলে সে অন্য কথা। সেজন্য অসম্ভব ব্যবধানের এক জয়ই পেতে হবে পাকিস্তানকে।
আসলে নিউজিল্যান্ডের আড়ালে পাকিস্তানি সমর্থকদের মন ভাঙা শুরু কিউইদের প্রথম ওভার থেকেই। পঞ্চম বলেই ক্রিস ওকসের তোপে খালি হাতে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে যখন পড়লেন কলিন মুনরোর জায়গায় দলে ডাক পাওয়া ওপেনার হেনরি নিকোলস।
কিছুক্ষণ বাদে জস বাটলারের দারুণ এক ক্যাচে ফিরলেন আরেক ওপেনার মার্টিন গাপটিলও। ৮ রান করা এ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন জফরা আর্চার। এক আসরে ইয়ান বোথামের ১৬ উইকেটের রেকর্ড ভেঙে গড়েছেন নতুন ইংলিশ মাইলফলক। গাপটিলের উইকেটটি এই বিশ্বকাপে ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত বোলারের ১৭তম শিকার।
বিপদে যে দুজন হতে পারতেন ভরসা, কাকতালীয়ভাবে সেই রস টেলর (২৮) ও কেন উইলিয়ামসন (২৭) ফিরেছেন রানআউটে কাঁটা পড়ে। ৬৯ রানেই তাই খরচের খাতায় কিউইদের টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যান।
পরের কিছুক্ষণ একাই লড়ে গেছেন এই বিশ্বকাপে কিউইদের অন্যতম ফ্লপ ব্যাটসম্যান টম ল্যাথাম। পেয়েছেন বিশ্বকাপে প্রথম ফিফটিও। তাতে কেবল হারের ব্যবধানই কমেছে। ৬৫ বলে ৫৭ রান করে প্লাঙ্কেটের বলে বাটলারকে ক্যাচ দিয়ে ল্যাথাম যখন ফিরছেন, হার তখন সুনিশ্চিত!
ল্যাথামের আউটের পর আর বড় হয়নি কিউদের সংগ্রহ। দ্রুত লেজের ব্যাটসম্যানদের ফিরিয়ে ৩০ বল বাকি থাকতেই খেলা শেষ করে দেন ইংলিশ বোলাররা।
ইংলিশদের সেরা বোলার মার্ক উড। ৯ ওভারে ৩৪ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন।
আগে প্রথমে ব্যাট করে জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোর ১২৩ রানের ওপেনিং জুটিতে বড় রানের ভিত্তি পায় ইংল্যান্ড। রয় ৬০ রানে ফিরলেও ৯৫ বলে নিজের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি তুলে নেন বেয়ারস্টো। ১৫ চার ও এক ছয়ে শেষে আউট হয়েছেন ১০৬ রান করে।
শেষদিকে অধিনায়ক ইয়ন মরগানের ৪২ ও অন্যদের ছোট ছোট কয়েকটি ইনিংসে তিনশো পেরোয় ইংলিশরা।
কিউইদের হয়ে ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি ও জিমি নিশাম নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। মিচেল স্যান্টনার ও টিম সাউদির উইকেট একটি করে।








