দ্যুতিময় বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ১৩৪ রানে আটকে রেখে সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টিতে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। নেপিয়ারে ৫০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর জিমি নিশামের লড়াই স্বাগতিকদের নিয়ে যায় মাঝারি পুঁজিতে। নয়ত আরও অল্পতে বেধে রাখার সুযোগ এসেছিল কিউইদের।
খেলা শুরুর আগে থেকেই ম্যাকলিন পার্কের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় টস জিতে আগে বোলিং বেছে নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পেস কন্ডিশনে শুরুতে স্পিনার এনে তিনি চমকে দেন কিউইদের। প্রথম ওভারে বাংলাদেশকে সাফল্যও এনে দেন শেখ মেহেদী হাসান।
অফস্পিনার চতুর্থ বলে টিম সেইফার্টকে (০) বোল্ড করেন। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে শরিফুল ইসলাম ফেরান ফিন অ্যালেনকে (১)। পরের বলে গ্লেন ফিলিপসকে (০) এলবিডব্লিউ করে জাগান হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা।
শরিফুলের জোড়া আঘাতের পর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বল হাতে নেন মেহেদী। আবারও পান সাফল্য। এবার শিকার হন ড্যারেল মিচেল। ১৫ বলে দুটি চারে ১৪ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে।
লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন উইকেট পান নিজের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে। মার্ক চ্যাপম্যানকে (১৯) বাউন্ডারি লাইনে তানজিম সাকিবের ক্যাচ বানান। ৫০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মিচেল স্যান্টনার ও নিশাম জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যান একশর কাছে।
স্যান্টনারকে (২৩) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে ৪১ রানের সেই জুটি ভাঙেন শরিফুল। তৃতীয় শিকারের দেখা পান বাঁহাতি টাইগার পেসার।
নিজের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে আরও একটি উইকেট পেতে পারতেন শরিফুল। টিম সাউদি ৩০ গজ বৃত্তের মধ্যে ক্যাচ তুললেও রনি তালুকদার ও রিশাদ হোসেনর মাঝে ভুল বোঝাবুঝিতে শেষপর্যন্ত বল ধরার চেষ্টা করেননি কেউই।
শেষ দিকে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা নিশামকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দেন মোস্তাফিজ। ২৯ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছয়ে ৪৮ রান করে ফেরেন কিউই ব্যাটার।
টি-টুয়েন্টি অভিষেকে নিজের শেষ ওভারে উইকেট পান তানজিম সাকিব। সবচেয়ে খরুচে ছিলেন তরুণ পেসারই। ৪ ওভারে দেন ৪৫ রান।
শেখ মেহেদী ৪ ওভারে ১২ রানে ২ উইকেট নেন। শরিফুল ৪ ওভারে ২৬ রানে ৩টি ও মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ১৫ রানে নেন ২ উইকেট।
গতবছর তাসমানপাড়ে এসেছিল টেস্ট জয়। এবার ওয়ানডেতে মিলেছে সাফল্য। পরপর দুবছর দুই সংস্করণে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে হারানোর স্বাদ পেয়েছে। এবার টি-টুয়েন্টি সিরিজ। বড়, মাঝারির পর ছোট ফরম্যাটেও আরও একটি ‘প্রথম’ জয়ে রাঙানোর আশায় বাংলাদেশ।








