গেল বছরের মে মাসে এফডিসির পরিচালক সমিতি থেকে চিত্রনায়ক বাপ্পারাজকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। তার জের ধরেই ২০ মে নায়করাজ রাজ্জাককে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ করেছিলেন পরিচালক সমিতির মহাসচিব ও চিত্রপরিচালক বদিউল আলম খোকন। তিনি বলেছিলেন, ‘চলচ্চিত্রের জন্য নায়করাজের কোনো অবদান নেই! রাজ্জাক দুই নাম্বারি করে উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স বানিয়েছেন। আমি মুখ খুললে রাজ্জাক সাহেবের অনেক কিছু ফাঁস হয়ে যাবে!’
বদিউল আলম খোকনের এ মন্তব্যের সময় পাশেই ছিলেন চিত্রপরিচালক গাজী মাহবুব। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে তিনি পাল্টা জবাবে খোকনকে বলেন, ‘খোকন ভাই, আপনি এসব কী বলছেন? বাপ্পারাজের বিষয়ে আপনি রাজ্জাক সাহেবকে কেন টানছেন? নায়করাজ একটা ইন্সটিটিউট। উনি চলচ্চিত্রে আমাদের আইডল।’ এরপর এক-দুই কথায় তুমুল শোরগোল বাধে খোকন ও গাজী মাহবুবের মধ্যে।
এরপর গেল বছরের ২৫ জুলাই পরিচালক সমিতির সভায় গাজী মাহবুবের সদস্যপদ সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে একবছরে জন্য স্থগিত করা হয়, যা এখনো চলমান। যেজন্য এই নির্মাতা তার পর থেকে আর কোনো ছবির শুটিং করতে পারছেন না। গাজী মাহবুবের দাবী, পরিচালক সমিতির এমন সিদ্ধান্তের কারণে তিনি মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে চরম হেয় হচ্ছেন। তার পরিচালিত ‘ভালোবাসা ২৪*৭’ নামের একটি ছবির শুটিং থেমে রয়েছে। ছবির প্রযোজক তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন!
গাজী মাহবুব চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, নায়করাজ রাজ্জাক সাহেবকে নিয়ে খোকন ভাই আপত্তিকর মন্তব্য করলে আমি তার প্রতিবাদ করি। একপর্যায়ে তিনি আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসলে, আমি তাকে দুটো গালি দেই। এটা কী গুরুত্বর অন্যায়? নায়করাজের মতো মানুষকে ছোটকরে কথা বলায় আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। ওটাই কী আমার দোষ ছিল? যেজন্য আমাকে এত ভুগতে হচ্ছে? আমি মনে করি এখানে পাওয়ার খাটিয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ ঝাড়া হচ্ছে।
‘প্রেমের তাজমহল’ ছবির এই পরিচালক আরো বলেন, মে মাসের শেষের দিকে আমি মামলা করতে গিয়েছিলাম। তখন তেজগাঁও থানার ওসি এবং ওই জোনের ডিসি আমাকে মামলা করতে নিষেধ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, মিমাংসা করে সবাইকে মিটিয়ে দেবেন। আমি তখন আর মামলা করিনি। মিমাংসাও আর হয়নি। দু-মাস পরে চিঠি পাই, পরিচালক সমিতি থেকে আমার সদস্যপদ বাতিল। সদস্যপদ বাতিলের চিঠি নিয়ে তেজগাঁও থানার ওসিকে দেখাই।
তখন ওসি সাহেব আশ্বস্ত করেছেন এই বলে যে, জায়েদ খানের মধ্যস্ততায় মিমাংসা হবে। এরপরে আর কিছুই হয়নি। গত বছর চিত্রনায়ক শাকিব খান, পরিচালক শামীম আহমেদ রনিকে পরিচালক সমিতি থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে সেটি তুলেও নেয়। তাহলে আমি কী অন্যায় করলাম, আমারটা কেন বহাল থাকলো? আমি তো দু-দফায় লিখিত দিয়েছি, কয়েকজন সিনিয়রদের পরামর্শ নিয়ে শেষবার গত ২০ ডিসেম্বর লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি পরিচালক সমিতির সভাপতি বরাবর চিঠি দেই।
কিন্তু শেষ রক্ষা পাইনি। চিঠিতে জানিয়েছি, যা হয়েছে সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সব অন্যায় আমি মেনে নিচ্ছি। আমাকে ক্ষমা করে কাজে ফেরার সুযোগ করে দিন। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর পরিচালক সমিতির বছরের শেষ মিটিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারি আমার আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। বরং জানানো হয়েছে, আমার এই শাস্তি বহাল থাকবে। জানিনা এর শেষ কোথায়।
এ ব্যাপারে পরিচালক সমিতির সভাপতি ও চিত্রপরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, গাজী মাহবুবের সদস্যপদ একবছরের জন্য বাতিল করা হয়েছিল। একবছর এখনো পূর্ণ হয়নি। একবছর শেষ হবে জুলাই মাসে। তার পর আমরা সমিতির সভায় তার জন্য নতুন করে সিদ্ধান্ত নেব। এর আগে সে সদস্যপদ ফেরত পাবেনা।
পরিচালক সমিতির মহাসচিব ও চিত্রপরিচালক বডিউল আলম খোকন বলেন, গাজী মাহবুব যে অন্যায় করেছিল, সমিতির সবার সিদ্ধান্তে তার সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে এবং এক বছরের তিনি পরিচালক সমিতি থেকে সদস্যপদ পাবেন না। এটা আমার ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত না। সমিতির সকলের মতামতে এটা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলচ্চিত্র নির্মাতা নির্মাতা গাজী মাহবুব এখনো পর্যন্ত পাঁচটি ছবি নির্মাণ করেছেন। ছবিগুলো হচ্ছে প্রেমের তাজমহল, শিরি ফরহাদ, রাজা সূর্য খাঁ, আমার পৃথিবী তুমি, অশান্ত বাদশা। এছাড়া ‘ভালোবাসা ২৪×৭’ নামের একটি ছবিও বানানোর কথা রয়েছে তার।







