বর কেলির এক উপহার তুমুল আবেগাক্রান্ত করল কনে বেকি টার্নেকে (৪০)। বিয়ের অনুষ্ঠানে এমন অসাধারণ প্রাপ্তির কল্পনা কেউ করতে পারে? মাত্র ১৯ বছর বয়সী সন্তান ট্রিসটনকে ২ বছর আগে হারিয়েছেন বেকি। কিন্তু প্রবলভাবেই সেই সন্তানের উপস্থিতি ছিলো অনুষ্ঠানে। ছেলের জন্য একটি আসন খালি রাখা ছিল যেনে স্বর্গ থেকে খানিক ছুটি নিয়ে আসতে পারে সে। ট্রিসটনের হৃদপিণ্ড নিয়ে বেঁচে থাকা জ্যাকব কিলবির উপস্থিতিই আবেগের বাঁধ ভেঙ্গে দেয়। কিলবির বুকে স্টেথোস্কোপ বসিয়ে হৃদস্পন্দন শুনেন বেকি। এ যে তার সন্তানেরই অঙ্গ, এখনও জীবিত।
আলাস্কায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বরপক্ষের হয়ে এসেছিলেন জ্যাকেব কিলবি। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ৩ হাজার মাইলেরও বেশি পথ অতিক্রম করে কেলিকে চমকে দিতে বরের বিশেষ উপহার হিসেবেই এসেছিলেন তিনি। এমন অপ্রত্যাশিত উপহার বাকরুদ্ধ করে দেয় বেকিকে, প্রথমবারের মতো জ্যাকোবের দেখা পান তিনি।
২০১৫ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে আকস্মিকভাবেই মারা যান ট্রিসটন। মৃত্যুর পর তার হৃদপিণ্ডসহ অন্যান্য কয়েকটি অঙ্গও দান করা হয়। বিয়ের এই অনুষ্ঠানে তার হৃদপিণ্ড ছিল, তার জন্য একটি আসনও ছিল।

ট্রিসটনের জন্য ফাঁকা সিটটিতে এমন একটি বার্তাও রাখা হয়, “আমি স্বর্গে আছি। তোমার বিয়ের অনুষ্ঠান, এখন আমি কি করি? এই সময়টা তোমার সাথে কাটাতে আমি পৃথীবিতে নেমে আসবো। তাই আমার জন্য একটা সিট রেখে দিও, শুধু একটি খালি চেয়ার। তুমি হয়তো আমাকে দেখতে পাবে না, কিন্তু আমি সেখানে থাকবো।”
স্ত্রীকে চমকে দেওয়ার এই আয়োজন করা কেলি বিবিসিকে বলেন, “আমি চার-পাঁচ মাস আগে থেকেই জ্যাকবের সাথে এই চমক দেয়ার পরিকল্পনা করি। সে একজন অসাধারণ তরুণ।”
অঙ্গদানে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সকলকে উৎসাহিত করি, অনুরোধ করি অঙ্গদাতা হতে। এটা জীবন বাঁচায়, চিরদিনের জন্য জীবন বদলে দিতে পারে।”

ট্রিসটনের হৃদপিণ্ড নিয়ে বেঁচে থাকা জ্যাকবের কাছে অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা “অপার্থিব, খুবই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এবং অবিশ্বাস্য আবেগের”। বেকির সাথে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা শুধুই ভালোবাসা এবং দুই পরিবারের এক হওয়ার গল্প”।
বিয়ের দিনটি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন জানিয়ে বেকি ফেসবুকে জ্যাকবের প্রতি লিখেন, “এমন চমৎকার বিস্ময় কখনোই পাইনি। ট্রিসটনের হৃদপিণ্ডের যত্ন নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এখানে থাকার জন্য ধন্যবাদ।”

বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবিগুলো অনলাইনে বহুবার শেয়ার হয়েছে। অন্যান্য অঙ্গ দাতা-গ্রহিতা পরিবারদেরও হৃদয় ছুঁয়ে গেছে তা। একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বেকিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “অন্যের পরিবারকে জীবন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি একজন ছোট সন্তানের মা, যার হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।”
একজন মা হিসেবে অপর একজন মাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লিখেন, “আমি খুবই দুঃখিত যে তুমি তোমার আদরের ছেলেকে হারিয়েছো। সত্যিই, তোমার পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন তুমি অন্যকে জীবন দিতে চেয়েছো, অন্যকে আশা দিতে চেয়েছো, এটা আমি কখনোই ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।”







