সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টার মামলার প্রধান আসামী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথীসহ চার আইনজীবীকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জামিন পাওয়া অপর তিন আসামী হলেন অ্যাডভোকেট শাকিলা রৌশন, ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা ও মারামারি ঘটনার প্রেক্ষাপটে বরখাস্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন মোঃ জাকির হোসেন।
বুধবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে আসামীরা আগাম জামিন চাইলে শুনানি শেষে আদালত তাদের আট সপ্তাহের আগাম জামিন আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শেখ আওসাফুর রহমান বুলু।
এর আগে সোমবার বিচারপতি মো. সেলিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চের একজন বিচারপতি নাহিদ সুলতানা যুথির জামিন আবেদন শুনতে বিব্রতবোধ করেন। পরে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে তিনি বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য নির্ধারণ করে দেন।
গত ৬ ও ৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের পর ফলাফল ঘোষণা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্যপট তৈরি হয়। ৭ মার্চ রাতেই ভোট গণনার পক্ষে সোচ্চার হন সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথী। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্পাদক প্রার্থী শাহ মনজুরুল হক ৮ মার্চ বেলা ৩ টায় ‘দিনের আলোতে’ ভোট গণনা চাচ্ছিলেন। এবিষয় নিয়েই একপর্যায়ে দুপক্ষের সমর্থকদের মাঝে হট্টগোল থেকে মারামারির ঘটনা ঘটে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান চৌধুরী সাইফের ওপর আক্রমণে অনেকেই বহিরাগত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
একপর্যায়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান চৌধুরী সাইফ তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। সে মামলায় এবারের নির্বাচনের স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি ও বিএনপির প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে এই মামলার দুই নম্বর আসামী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী বশির আহমেদ, ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরী, হাসানুজ্জামান, তরিকুল ইসলাম ও এনামুল হককে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর আসামীদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।
তবে মামলার প্রধান আসামী নাহিদ সুলতানা যুথির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। অ্যাডভোকেট যুথী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামসের (পরশ) স্ত্রী।
এদিকে নির্বাচনের পর ভোট গণনা নিয়ে হামলা-মামলার প্রেক্ষাপটে ৩ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করে তাদের পদ হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ওই তিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন মোঃ জাকির হোসেন, কাজী বশির আহমেদ ও শ্যামা আক্তার। এদের মধ্যে মোঃ জাকির হোসেন ও কাজী বশির আহমেদ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান চৌধুরী সাইফের করা মামলার আসামী।







