রাষ্ট্রদ্রোহ এবং নাশকতাসহ ৫টি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পৃথক শুনানিতে প্রথমে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার নাশকতা মামলা এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন মঞ্জুর হয়। পরে বাকি তিনটি মামলাতেও শুনানি শেষে জামিন পান তিনি।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা নাশকতার দুই মামলা, গুলশান থানার একটি মামলা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণ করতে আদালতে পৌঁছান তিনি।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের হাজিরা উপলক্ষে সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয় পুলিশ।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার আদালত কক্ষে একটি মামলায় জামিন আবেদনের শুনানির পর ওই ভবনের ৬ তলায় অবস্থিত ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ আদালতে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পন করে খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়ার প্রেক্ষিতে শুনানি শুরু হয়।
এরপর তিনি ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির হয়ে আরও ৩টি মামলায় জামিন আবেদন করেন তিনি।
আত্মসমর্পণ করা মামলাগুলোর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে হত্যা ও দগ্ধ হওয়ার বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় গত ৩০ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এছাড়া রয়েছে একই ঘটনায় চার্জশিট হওয়া হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের অন্য একটি মামলা।
২০১৫ সালের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলাগুলোয় চার্জশিট দাখিল করা হয়। এই মামলায় মঙ্গলবার চার্জশিট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু ও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকা সিএমএম আদালতে একটি মামলা হয়।
ওই মামলায় ৩ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন দেওয়া হয়। কিন্তু ওইদিন তার পক্ষে সময় চাওয়ায় ১০ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত।
এর আগে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ জোট সরকারের প্রভাবশালী ৯ সাবেক মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ১৩ মে চার্জশিট দাখিল হয়। চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর থেকেই উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিলো।
২০১৫ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার দুটি রিট আবেদন খারিজ করে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। সে অনুয়ায়ী আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলাটিতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।
গুলশানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে পেট্রোলবোমা হামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামী করে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার তদন্ত এখনো চলছে।







