দালালদের প্ররোচণায় বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া নারীদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও দেশে ফিরতে না পেরে বাধ্য হয়ে ভিন দেশের পতিতালয়ের মতো জায়গায় মানবেতর জীবনযাপনের খবর অনেক পুরনো। কিন্তু নতুন খবর হচ্ছে ভাগ্য বিড়ম্বিত এসব নারীর জন্য ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনস্যুলার সেকশনের প্রধান মোশারফ হোসেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, তার আন্তরিকতার কারণে এসব ভাগ্যাহত নারীদের ৭ থেকে ৮ বছরের বদলে এখন অপেক্ষার প্রহর মাত্র ২ মাস। এই অল্প সময়ের মধ্যেই পাচারের শিকার নারীদের দেশে ফেরত পাঠানোর ‘মিশন’ নিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের এই কর্মকর্তা ৪৩৮ জন নারীকে দেশে পাঠিয়েছেন। সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্ডিয়ার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জ্যোতি নালেও রয়টার্সকে একই কথা বলেছেন। তিনি জানান, ‘শুধুমাত্র হাইকমিশন কর্মকর্তার আগ্রহের কারণে কাজটা এখন সহজ হচ্ছে। আগে যেখানে কয়েক বছর লাগতো সেখানে লম্বা সময়ের অপেক্ষা এখন কমে এসেছে মাত্র দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসে।’ এসব অসহায় নারীর খুব অল্প সময়ে দেশে ফেরত পাঠানোর এমন মহতী উদ্যোগকে ‘মিশন’ হিসেবে নেওয়ায় আমরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, পাচারের শিকার হওয়া নারীদের এভাবে অল্প সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তিনি বিদেশে কর্মরত আমাদের অন্যান্য কূটনীতিকদের কাছে রোল মডেল হবেন। সেভ দ্য চিলড্রেনের ২০১৪ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী পূর্ববর্তী ৫ বছরে বাংলাদেশের ৫ লাখ নারী বিদেশে পাচার হয়েছে। এখন অবশ্য এই সংখ্যা আরও বেশি হলেও এসব নারীকে দেশে ফিরিয়ে আনার তেমন কোন খবর আমরা পাইনি। পাচারের শিকার এসব নারীকে শীঘ্রই দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া মানবপাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি পাচার রোধে হওয়া বিশেষ আইনকে আরও কার্যকর করতে হবে। কেননা পাচারের মামলা তদন্ত এবং বিচার যে হারে হচ্ছে তা সন্তোষজনক নয়। জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২ সালে আইন হওয়ার পর নারী পাচারের অভিযোগে কয়েক হাজার মামলা হলেও হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি মামলায় রায় হয়েছে। এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে নারী ও শিশু পাচারকে শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে সরকারকে আরও বেশি আন্তরিক হতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।








