মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের একজন গুণী চিত্রশিল্পী। বাংলাদেশে পাপেটের (পুতুল নাচ) বিকাশ, শহীদ মিনারের পেছনে লাল রংয়ের সূর্যের প্রতিরূপ স্থাপনসহ শিল্পকলার সব ক্ষেত্রেই ছিল তার স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণা। ১৯৭২ সালে বিটিভি থেকে প্রচারিত শিশু প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে জনপ্রিয় ‘নতুন কুঁড়ির’ রূপকার তিনি। এছাড়া ১৯৭৩ সালে তৈরি করেছিলেন ‘রক্তকরবী’ নাটক। কর্মজীবনেও তিনি সরকারী উচ্চপদস্থ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। ৮৩ বছরে পা রাখবেন তিনি। জন্মদিনের আনন্দ উদযাপনসহ শিল্পকলার নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার রাত ৯.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানটি চ্যানেল আইতে দেখানো হবে। এই প্রথমবারের মতো তিনি স্বপরিবারে টিভি পর্দায় হাজির হচ্ছেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন মৌসুমী বড়ুয়া।
শুভ জন্মদিন
ধন্যবাদ
কেমন আছেন?
ভালো আছি। খুব ভালো আছি আমি।
জন্মদিনের আনন্দকে কিভাবে উপভোগ করছেন?
ভীষণ উপভোগ করছি। সুস্থ থেকে আপনজনদের পাশে নিয়ে জন্মদিন উদযাপন করছি, এটাই তো অনেক বড় পাওয়া।
ছোটবেলায় জন্মদিনকে কিভাবে উপভোগ করতেন?
আমাদের সময়ে তো জন্মদিনটা সেভাবে উদযাপন করা হতো না। তবে মজা হতো। ভাইবোনদের মধ্যে সবার ছোট আমি। তাই ছোটবেলায় মাকে হারালেও, তারা সেই অভাব আমাকে কখনও বুঝতেই দেননি। অনেক আদর, স্নেহ আর ভালোবাসা পেয়েছি তাদের কাছে থেকে।
ছোটবেলার জন্মদিনের কোনো স্পেশাল গিফটের কথা মনে পড়ে?
হ্যাঁ হ্যাঁ, সেকথা আমার ভীষণ মনে পড়ে। কবে সেটা মনে নেই, তবে অনেক ছোটবেলায় এক জন্মদিনে বাবা আমাকে একটা পিয়ানো এনে দিয়েছিলেন। সেটা পেয়ে আমার ভীষণ আনন্দ লেগেছিল। আজও সেই পিয়ানোর স্মৃতি মনে পড়ে।
এখন জন্মদিনে কি আপনার জন্য কোনো স্পেশাল গিফট থাকে?
আমার এখনকার জন্মদিনে স্পেশাল গিফট আমার ৬ বছরের নাতনি আমায়া। ওকে পাশে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটতে পারার চেয়ে বড় গিফট আর আনন্দ আমি এখন কোথাও খুঁজে পাই না। আমায়া আমার জন্মদিনের আনন্দে পূর্ণতা এনে দেয়।
আপনার ধ্যান-জ্ঞান তো ছবি আঁকা
হ্যাঁ, তা ঠিক। তবে তার বাইরে আরেকটি কথা বলতে হবে, আমি গান গাইতেও অনেক পছন্দ করি। ছোটবেলা থেকে নিয়মিত গান শিখেছি আমি। এখনও হারমোনিয়াম বাজিয়ে নিয়মিত গান গাই।
শিশু প্রতিভা বিকাশে আপনার অবদান তো চিরস্মরণীয়
আসলে শিশুদের জন্য আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। শিশুমনকে বুঝতে হবে সবার আগে। ওরা কি চায় তার মূল্য দিতে হবে সব থেকে বেশি। ওরা তো আমাদের সম্পদ।
এই প্রজন্মের জন্য আপনার কোনো উপদেশ আছে?
আমি তাদের সবাইকে বলবো তোমরা যা করবে, মনোযোগ দিয়ে করবে, যত্ন নিয়ে করবে। যত্ন নিয়ে যা করা হবে, তাতেই কোনো না কোনো ফল আসবে। আর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে সবসময়।
আপনাকে আবারও জন্মদিনের শুভেচ্ছা, ভালো থাকবেন।
তোমাকেও ধন্যবাদ।








