১১৮তম মিনিটে মদ্রিচের পেনাল্টি মিস। দুই মিনিট বাদে টাইব্রেকার। সেখানে আবার দুই দলের একাধিক শট ঠেকানোর শিহরণ। শেষ শটে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে ক্রোয়েশিয়া। কোয়ার্টারে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক রাশিয়া।
ক্রোয়েশিয়া পেনাল্টি পায় ১২০ মিনিট শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে। অ্যান্টি রেবিচ দুইজনকে দৌড়ে হারিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককেও বিট করেন। সামনে তখন ফাঁকা নেট। ম্যাথিয়াস জোরগেনসেন আগুয়ান রেবিচকে পেছন থেকে ফেলে দিয়ে শট নিতে দেননি। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। শট নিতে আসেন লুকা মদ্রিচ। ডানদিকে শট নিয়েছিলেন। ডেনমার্ক গোলরক্ষক ক্যাসপার শ্মাইকেল সেটি ধরে ফেলেন! নাটকীয় পরিস্থিতির শেষে ম্যাচ যায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে যা হয়েছে:
ডেনমার্কের হয়ে প্রথম শট নেন ক্রিস্টিয়ান এরিকসন। ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক সেটি ঠেকিয়ে দেন।
ক্রোয়েশিয়ার প্রথম শট নিতে আসেন মিলান বাদেলজ। সেটি ঠেকিয়ে দেন ডেনমার্ক গোলরক্ষক।
ডেনমার্ক দ্বিতীয় শটে গোল পায়।
ক্রোয়েশিয়াও দ্বিতীয় শটে গোল পায়।
ডেনমার্ক তৃতীয় শট থেকে গোল পায়।
ক্রোয়েশিয়াও তৃতীয় শটে গোল পায়। নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি মিস করা মদ্রিচ এবার গোল করেন।
ডেনমার্কের চতুর্থ শট ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক।
ক্রোয়েশিয়ারও চতুর্থ শট ঠেকিয়ে দেন ডেনমার্কের গোলরক্ষক!
ডেনমার্কের পঞ্চম শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক!
ক্রোয়েশিয়ার শেষ শট আর ঠেকাতে পারেননি ডেনমার্ককে এত সময় টিকিয়ে রাখা গোলরক্ষক। রাকিটিচ বল জালে জড়ালে তারা হেরে যান ৩-২ ব্যবধানে।

ম্যাচের চিত্র:
প্রথমার্ধে ক্রোয়েশিয়া ৫৮ শতাংশ সময় নিজেদের দখলে বল রাখে। এই সময়ে তারা পাস খেলে ২৪৭টি। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ সময় বল দখলে রাখার পাশাপাশি ডেনমার্ক পাস খেলে ১৫৮টি।
ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় অদ্ভুত দুটি গোল পায় দুই দল।
প্রথম মিনিটে এগিয়ে যায় ডেনমার্ক। জোনাস কনুডসেনের থ্রো থেকে বল পান থমাস ডেলানি। ভিড়ের মধ্যে বল দেন ম্যাথিয়াস জোরগেনসেনকে। ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের মাটি কামড়ানো শট ক্রোয়েশিয়া গোলরক্ষক ড্যানিজেল সুবাসিকের পায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়।
আর চতুর্থ মিনিটে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। ডি-বক্স থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মুখে লাগান ডিফেন্ডার আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন। মারিও মানজুকিচ বল পেয়ে জালে জড়িয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দল সতর্ক ফুটবল খেলেছে। খুব সহজে কেউ উপরে উঠতে চায়নি। ৭২তম মিনিটে ডেনমার্ক একবার বক্সে ঢুকে পড়ে। ইউসুফ পোলসেন বল দেন নিকোলাই জর্গেনসনকে। তিনি দ্রুত শটও নেন। কিন্তু গোলরক্ষকের সোজা মারেন।

৭৬তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়া একটি সুযোগ পায়। অ্যান্টি রেবিচ বক্সের ঠিক বাইরে দারুণ ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান। বল নিয়ে সামনে যেতে পারতেন। সেটি না করে দূর থেকেই শট নেন। গোলরক্ষক লাইনে ছিলেন। বল যায় তার হাতে।
৯০ মিনিটের পর শেষ সুযোগটি পান ক্রোয়েশিয়ার রাকিটিচ। প্রায় ২৭ গজ দূর থেকে নেয়া তার শট অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
এরপর প্রথম ১৫ মিনিটেও গোল আসেনি। দ্বিতীয় ১৫ মিনিটের শুরুতে ডেনমার্কের পিওনে সিস্টো একটি সুযোগ পান। দুইজনকে বিট করে বক্সের দিকে এগিয়ে যান। বক্সে ঢুকে শটও নেন। অল্পের জন্য সেটি বাইরে দিয়ে চলে যায়।







