‘মুজিবুর আছে বাঙালীর অন্তরে, বাঙালীর ঘরে ঘরে’— জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কোনাল গেয়েছেন গানটি। এই গানের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় শুরু হয় ‘বঙ্গবন্ধু উৎসব’। আয়োজন করেছে বাঙালী সাংস্কৃতিক জোট।
উৎসবের প্রথমপর্বে ছিল আলোচনা, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তি নিয়ে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে নাচ আর গান।

‘বঙ্গবন্ধু উৎসব’ উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, চিত্রশিল্পী অধ্যাপক হাশেম খান, নাট্যব্যক্তিত্ব ইনমুল হক। আরও উপস্থিতি ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠ স্বরের ধ্বনি’ গানের শিল্পী অংশুমান রায়ের ছেলে ভাস্বর রায়, কণ্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, লিলি ইসলাম, বাঙালী সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম বাশারসহ অনেকে। আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন বাঙালি জোটের সভাপতি চয়ন ইসলাম। উৎসব যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন আনজাম মাসুদ ও মৌসুমী বড়ুয়া।
সকালে পায়রা উড়িয়ে ‘বঙ্গবন্ধু উৎসব’ চ্যানেল আইয়ে সরাসরি সম্প্রচারের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘এই মাস কয়েকটি কারণেই গৌরব আর আনন্দের। এই মাসে স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণায় বাঙালী ঝাঁপিয়ে পড়ে দীর্ঘ নয়মাস যুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি নতুন দেশের সূচনা হয়। তার নাম বাংলাদেশ। এই মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়। দিনটি জাতীয় শিশু দিবসও।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমরা তার পরবর্তী প্রজন্ম তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা বঙ্গবন্ধুর কন্য শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে এগিয়ে চলেছি।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের গৌরবের প্রতীক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই মহান ব্যক্তির জন্মদিনে কিছু বলার সুযোগ পেয়েছি, তাই নিজেকে ধন্য মনে করছি।’
লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর চেতনার আলোকে আলোকিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দৃপ্ত শপথ নেব— এটাই হউক আমাদের আজকের আয়োজনের মুল মন্ত্র।’
হাশেম খান বলেন, ‘আজ শিশু দিবস। আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস। এই দিবসে ছোট ছোট শিশুরা চিত্রাঙ্কনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে আঁকছে। এর মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে।’
আলোচনা পর্বের আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন। তারপর চিত্রশিল্পী হাশেম খানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতারও উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘আজ যারা মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আঁকছে, তারা কেউ এর কিছুই দেখেনি। অথচ তাদের মনের পটে আঁকা আছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চিত্র। তাই নিয়ে তারা আঁকছে।’

সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল মনোমুগ্ধকর সব পরিবেশনা। বাঙালী সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পী ও উপস্থিত সবার সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই পর্ব। তারপর চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজের শিল্পীরা গেয়েছে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘নোঙ্গর তোলো তোলো’, ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর’সহ কিছু দেশাত্মবোধক গান। ছিল শিশু নৃত্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে নাচ।
দিনব্যাপি এই আয়োজনে বিকালে দ্বিতীয় পর্বের থাকছে আলোচনা ও দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পর্বে প্রধান অতিথি থাকবেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
অালোকচিত্রী : রনো মাহমুদ








