নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে ‘নাগরিক সংলাপ’সহ ৬ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে ওয়ার্কার্স পার্টি।
নির্বাচন কমিশন গঠনে ‘আইন প্রণয়নের যথেষ্ঠ সময় নেই’- আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে দ্বিমত প্রকাশ করে দলটির প্রস্তাবের শুরুতে বলা হয়েছে, ‘পার্লামেন্টেই উদাহরণ আছে যে এর চেয়েও কম সময়ে আইন প্রণয়ন কেবল নয়, সংবিধান সংশােধনও হয়েছে। যেটা প্রয়ােজন সেটা হলাে সংবিধানকে অনুসরণ করা। যদি একান্তই আইন প্রণয়ন না করা হয় তবে যে সার্চ কমিটি গঠনের কথা বলা হচ্ছে সেক্ষেত্রেও সার্চ কমিটির দেয়া নামগুলাের সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির যাচাই বাছাইয়ের পর রাষ্ট্রপতিকে প্রেরণ করতে হবে এবং তিনিই সেই তালিকা থেকে নির্বাচন কমিশন নিয়ােগ করবেন।’
ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিকবৃন্দের সঙ্গেও সংলাপ করার প্রস্তাব দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, সংসদে রাজনীতিবিদ কমে গেছে। রাজনীতিতে যে টাকার খেলা চলছে তা বন্ধ করতে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন।
এক প্রশ্নের জবাবে মেনন জানান, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। সংলাপেই রাজনৈতিক সমাধান আসতে পারে।
৬ দফা প্রস্তাব
১. নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই এর প্রতি তদ্রুপ মান্যতা ও মর্যাদা থাকতে হবে যাতে করে নির্বাচন পরিচালনা, তত্ত্বাবধানে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন পরিবেশে কাজ করতে পারে।
২. সংবিধানের ১১৮ বিধি বাস্তবায়নার্থে আইনের বিধানাবলি অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়ােগের জন্য একটি আইন তৈরি করতে হবে। জাতীয় সংসদের নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই এই আইন উত্থাপন করে জরুরি ভিত্তিতে তা পাস করা যেতে পারে। এখানে উল্লেখ করতে চাই দেশের সকল রাজনৈতিক দলই এই আইন প্রণয়নের পক্ষে। নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকেও একই দাবি উত্থাপিত হচ্ছে।নির্বাচন কমিশন নিয়ােগ সংক্রান্ত সংবিধান বর্ণিত বিধি পরিপূরণে আপনি সরকারকে এই নির্দেশ দিতে পারেন। অন্যথায় প্রতিবারের মত এবারও নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক জন্ম দেবে এবং এ ধরনের আস্থাহীনতার পরিবেশে নির্বাচন কমিশন যথাযােগ্য ভূমিকা পালন করতে পারবে না।
৩. এই আইন অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণ নিয়ােগের জন্য নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল থাকবে। প্রধানমন্ত্রী, বিরােধীদলের নেতা, স্পীকার, প্রধান বিচারপতি ও এ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে এই সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠিত হবে। এই সাংবিধানিক কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির নিকট প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ােগের জন্য নাম প্রস্তাব করবেন। রাষ্ট্রপতি তাদের পরামর্শমত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়ােগ করবেন।
৪. যদি আইন প্রণয়ন একান্তই সম্ভব না হয় তবে বিকল্প হিসেবে যে সার্চ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করা হচ্ছে সে ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পদাধিকারীদের নিয়ে তা গঠন করা যেতে পারে। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনার নিয়ােগের জন্য প্রতি পদে চারজনের নাম প্রস্তাব করবে। সার্চ কমিটির দেয়া নামের তালিকা সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি বাছাই করে সেখান থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবে। রাষ্ট্রপতি ঐ তালিকা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের সদস্যদের নিয়ােগ দেবেন।
৫. নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্যের মধ্যে দু’জন নারী সদস্য থাকবেন।
৬. নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী আইনসমূহের যথাযােগ্য প্রয়ােগ নিশ্চিত করতে হবে।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আমরা আশা করি, একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ ও কার্যক্ষম নির্বাচন কমিশন গঠন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমাদের প্রস্তাবাবলী আপনার সদয় বিবেচনা পাবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন; দলটির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, মাহমুদুল হাসান মানিক, নুর আহমদ বকুল, কামরুল আহসান, আলী আহমেদ এনামুল হক এমরান এবং নজরুল ইসলাম হক্কানী।








