ষষ্ঠবারের মতো এবং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর নর্থ কোরিয়া জাতিসংঘের নতুন আরেক দফা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে। জাতিসংঘের সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্তে নর্থ কোরিয়ার মিত্র চীন এবং রাশিয়ার সমর্থন ছিল।
নর্থ কোরিয়ার কয়লা, সীসা এবং সামুদ্রিক খাদ্যদ্রব্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি খসড়া নিষেধাজ্ঞাপত্রের ওপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলে ভোটাভুটি হয়। ভোটে ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের সবগুলোই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
এর ফলে এতদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আর অবরোধের অধীনে থাকা দেশটির ঝুলিতে আরও একটি অবরোধ জমা হলো।
সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে নর্থ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত বেশকিছু কঠিন প্রস্তাবনা তুলে নিয়ে নতুন অবরোধগুলো প্রস্তাব করে। তুলে নেয়া অবরোধ প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল পরিপূর্ণ জ্বালানি তেল নিষেধাজ্ঞা এবং নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা।
নতুন পাস হওয়া প্রস্তাবনায় পোশাকশিল্প খাতে রপ্তানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যেন নর্থ তার পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট অর্থ যোগাড় করতে না পারে।
২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পিয়ংইয়ংয়ের ওপর জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আরোপিত এটি নবম সর্বসম্মত অবরোধ।
চলতি মাসের প্রথম দিকে নর্থ কোরিয়া দাবি করে, আগের চেয়ে আরও উন্নত মানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেছে তারা। নতুন এই হাইড্রোজেন বোমা দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলে বসানো যাবে। এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’তে কিম জং উন হাইড্রোজেন বোমার মতো কিছু একটা পরীক্ষারত অবস্থার ছবি প্রকাশ হয় ৩ সেপ্টেম্বর।
ওই দিনই তীব্র ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে নর্থ কোরিয়া ও এর আশপাশের এলাকা। তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও সাউথ কোরিয়া দাবি করে, নতুন তৈরি বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে নর্থ। এর ধারাবাহিকতায়ই নতুন এই নিষেধাজ্ঞা জারি হলো।







