ক্ষেপণাস্ত্রে বহনযোগ্য হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর পর নর্থ কোরিয়াকে বদমাশ দেশ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নর্থ কোরিয়ার এই পদক্ষেপ বিশ্বে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করবে জানিয়ে এর কঠোর সমালোচনা করছেন বিশ্বের প্রভাবশালী দেশের নেতারা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর সমালোচনা করে বলেন, তাদের এই পদক্ষেপ বিপদজনক এবং যা তাদেরই প্রধান বন্ধু রাষ্ট্র চীনের জন্য হুমকি এবং বিব্রতকর হয়ে উঠছে। এছাড়া সাউথ কোরিয়ার শান্তি আলোচনা কাজ করছে না বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প
হোয়াইট হাউজ জানায়, প্রেসিডেন্ট আজই জাতীয় নিরাপত্তা সভার বৈঠক ডাকবেন। এছাড়াও তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে কাজ না করার কথা জানাবে।
সাউথ কোরয়িার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন নর্থ কোরয়িার ওপর জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ কঠোর জবাব দেয়ার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, নর্থ কোরিয়ার কর্মকাণ্ড বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি এবং যা পরবর্তীতে তাদেরই ‘বিচ্ছিন্ন’ করবে।
চীন কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোর বিরোধিতা লঙ্ঘন করছে।
রাশিয়া বরাবরের মতই আলোচনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি সমাধানের কথা বলেছে। তারা বলছে, সব পক্ষের অংশগ্রহণমূলক আলোচনাই কেবল কোরিয়া অঞ্চলের সমস্যার সমাধান করতে পারে।
আর বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে নর্থ কোরিয়ার কার্যক্রমকে ‘বেপরোয়া’ উল্লেখ করে বরেছেন, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি। তাদের ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড’ বন্ধের জন্য তিনি বিশ্বের নেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে ক্ষেপণাস্ত্রে বহনযোগ্য হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করে নর্থ কোরিয়া। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ’তে এই বোমার পরীক্ষা চালানোর খবর ঘোষণা করা হয়। রোববার দুপুরে ১২ টার দিকে বোমাটির পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে কেসিএনএ জানায়।
পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর ফলেই নর্থ কোরিয়ায় ভূমিকম্প হয়েছে বলে এর আগে যে ধারণা করা হয়েছিল এই ঘোষণার ফলে তা নিশ্চত হওয়া গেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, এই পরীক্ষাকে ষষ্ঠবারের মতো তাদের ‘সফল পারমাণবিক’ পরীক্ষা বলে দাবি করেছে নর্থ কোরিয়া। তাদের সর্বশেষ পরীক্ষীত বোমাটি যেকোন পারমাণবিক বোমার চেয়ে কয়েকগুণ শক্তিশালীও বলে জানানো হয়।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই কেসিএনএ নতুন ধরণের একটি হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষারত অবস্থায়প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের কিছু ছবি প্রকাশ করে। সংস্থাটি বলেছে, কিম পিয়ংইয়াংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র ইনস্টিটিউটে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন এবং তাদেরকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বিষয়ক কাজে কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে এসেছেন।
কেসিএনএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইনস্টিটিউটটি সম্প্রতি আরও উন্নত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সফল হয়েছে। তিনি (কিম জং উন) একটি হাইড্রোজেন বোমা নতুন একটি আইসিবিএম-এর (আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল) ভেতর বসানো পর্যবেক্ষণ করেন।’
প্রতিবেদনটিতে বোমাটিকে ‘ব্যাপক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাযুক্ত নানাবিধ কার্যকারিতাসম্পন্ন থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা অনেক বেশি উচ্চতা থেকেও বিস্ফোরিত করা যাবে।







