নববর্ষের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই, সংঘাতও নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে দেশবাসী ও ঢাকাবাসীর জন্য নববর্ষের উপহার হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটার ও ওয়াটার ফাউন্টেন এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় তিনি আরো বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির অনুষ্ঠান। এটা মূলত ব্যবসা বাণিজ্য করা মানুষদের জন্য বিশেষ দিন। আগে মানুষের এত টাকা ছিলো না, তখন পণ্যবিনিময় হতো, মানুষ ধার কর্জ করতো। পরে নববর্ষের দিনে পুরনো ধারকর্জ শোধ করা হতো এবং নতুন করে খাতা খোলা হতো। মুঘল আমল থেকে এই নববর্ষ পালিত হয়ে আসছে।
এর সঙ্গে ধর্মের সংঘাত নেই, সম্পর্কও নেই। এটা পুরোপুরি একটা বাঙালি চর্চা, বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা। অনেকে এটাকে নানাভাবে উদ্ধৃত করতে চাইছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ছোট থেকেই দেখেছি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট অনেক বৈশাখি মেলা হতো। মেলায় মানুষ যেতো ও চিত্তবিনোদন পেতো। দেশের সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে এই উৎসবটি পালন করে। শান্তিপূর্ণভাবে যেন এই উৎসবটা পালন করা যায় সেদিকে সবাই খেয়াল রাখবেন।
অ্যাম্ফিথিয়েটার ও ওয়াটার ফাউন্টেন দেশবাসী ও ঢাকাবাসীর জন্য নববর্ষের উপহার উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, এখানে নানান অনুষ্ঠান হবে। তবে আমার অনুরোধ শুধু এখানেই নয় যেখানেই যাবেন সেখানে হাতে থাকা হাতের পানির বোতল, কাগজের ঠোঙা যেখানে সেখানে ছুঁড়ে মারবেন না। হাতিরঝিলে নানান সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছি আমরা। পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা ঠিক করেছি, ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করেছি, ঢাকা শহরকে যানজট মুক্ত করতে চেয়েছি। সেখানে বেড়াতে গিয়ে ময়লা যত্রতত্র ফেলবেন না। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা থাকবে সেখানে ফেলবেন। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কথা তো ইসলাম ধর্মেও বলে। আর এটা এটা নাগরিক সচেতনতা।
সন্ধ্যায় হাতিরঝিল প্রকল্পের অ্যাম্ফিথিয়েটার ও ফাউন্টেন উদ্বোধন করার কথা থাকলেও সকালেই সেটা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সন্ধ্যায় করার কথা ছিলো। আগেই করে দিলাম। কাল পয়লা বৈশাখ, যেন কেউ চাইলে এখানে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে।








