শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশের শততম টেস্টের দল থেকে হঠাৎ বাদ পড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এবার ঘরের মাঠে সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সাকিব আল হাসানের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন এই ক্রিকেটার। জানুয়ারিতে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই বাংলাদেশের অদৃশ্য প্রতিপক্ষ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। চন্ডিকাকে চিন্তার কারণ মনে করেন না মাহমুদউল্লাহ। নতুন বছরের শুরুটা ভাল করে তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তিনি।
সোমবার মিরপুরের একাডেমি মাঠে দাঁড়িয়ে বলেছেন নতুন বছরে নিজের লক্ষ্য, নতুন দায়িত্ব ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য শ্রীলঙ্কা সিরিজ নিয়ে।
টেস্টে সহ-অধিনায়ক হয়েছেন। শোনার পর কেমন লাগল?
রিয়াদ: দায়িত্ব পেয়েছি। চেষ্টা করবো ভালোভাবে পালন করতে।
আগেও সহ-অধিনায়ক ছিলেন। ছেড়ে দিয়েছিলেন কেন, এখন আবার হয়েছেন এটা আপনাকে আন্দোলিত করে কিনা?
রিয়াদ: আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম, জিনিসটা ঠিক না। বিসিবি যেটা ভালো মনে করেছে ওই সময়। বিসিবির সিদ্ধান্ত ছিল। আবার দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে। আমি চেষ্টা করবো আমার তরফ থেকে পুরোপুরি যেন এটি পালন করতে পারি। এছাড়া অধিনায়ককে সহযোগিতা করা। সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে যে ভূমিকা রাখা দরকার, সবার সাথে মিলেই আমরা ওভাবে চেষ্টা করবো দায়িত্বটা ভালোভাবে যেন পালন করা যায়।
জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্বে থাকার ব্যাপারটা কেমন?
রিয়াদ: এটা তো সব ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা বা একটা টিমের প্রতিনিধিত্ব করার। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার জন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ। আমার তরফ থেকে চেষ্টা থাকবে দায়িত্ব পালনে নজর দেওয়ার।
শ্রীলঙ্কা বাজেভাবে হেরেছে ভারতে। প্রতিপক্ষ সামনে সেই শ্রীলঙ্কা, কীভাবে দেখেন?
রিয়াদ: শ্রীলঙ্কা অবশ্যই খুব ভালো টিম। যদিও ওরা ভারতের কাছে হেরেছে। তারপরও আমি মনে করি এই সিরিজটার প্রতি তাদের আলাদা নজর থাকবে। আমরাও ছন্দে আছি। আমার মনে হয় খুব ভালো একটা সিরিজ হবে। দেশের মাটিতে খেলা হওয়ায় আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী। কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে যেন সেরাটা বের করতে পারি সে চেষ্টা থাকবে।
টেস্ট ক্যারিয়ারে আপনার ধাক্কাটা শ্রীলঙ্কা সফরে। বাদ পড়ে যাওয়া। এবার যখন প্রতিপক্ষ আবার শ্রীলঙ্কাই, কোচ যে ছিলেন সেও প্রতিপক্ষ শিবিরে। এই বিবেচনাগুলো আপনার ভেতরে কাজ করে কিনা?
রিয়াদ: আমি অত গভীরভাবে চিন্তা করছি না। আমি চিন্তা করছি আমি কীভাবে ভাল পারফর্ম করতে পারবো। যদি আমি আমার শক্তি ও দুর্বলতা জানি এবং সেই বিষয়ে যদি কাজ করতে পারি, মাইন্ডসেট যদি ঠিক রাখতে পারি সেক্ষেত্রে আমি আমার নিজেকে পারফর্ম করার সুযোগটা ভালোভাবেই দিতে পারবো। এটা আমার ইচ্ছা। যেন শক্তি ও দুর্বলতায় নজর দেই এবং পারফর্ম করতে পারি। এর বেশি কিছু চিন্তা করছি না।
শেষ ৩ বছর খুব ভালো গেছে। ২০১৮ তে অনেক খেলা আছে। নতুন বছরের শুরুটা হতে যাচ্ছে হোম ভেন্যুতে। নিঃসন্দেহে সুবিধা। কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
রিয়াদ: বছরের শুরুটা যদি ভালো করতে পারি… হোম কন্ডিশনে খেলা এটা সম্পর্কে আমরা ভালোমতোই জানি। প্রতিপক্ষের সব খেলোয়াড় সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারনা আছে। তো ভাল পারফরম্যান্স করা জরুরী। বছরের শুরুতেই ভাল করতে পারলে আমরা উজ্জীবিত থাকতে পারবো। সামনে অনেক ট্যুর আছে।
কোচ ছাড়া ভারতও খেলেছে খারাপ করেনি। কোচ ছাড়া আমাদেরও একটা সিরিজ ফেস পার করতে হবে। টিম বাংলাদেশের যে জৌলুস ছিল সেটা কি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে?
রিয়াদ: আমার মনে হয় না। সুজন ভাই, হ্যালসল, ওয়ালশ আছে সবাই একটা ইউনিট হিসেবে ভাল টিম ম্যানেজম্যান্টেই আছি আমরা। তারপরও নতুন শুরু, ভালো শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ভূমিকা, নতুন বছর, নতুন রিয়াদকে দেখতে পাব কিনা; নিজের ভেতর থেকে কোনো তাগিদ অনুভব করেন?
রিয়াদ: তাগিদ তো সবসময়ই থাকে। যখন জাতীয় টিমের জার্সিটা গায়ে জড়াবেন সবসময় তাগিদ থাকে ভালো করার, দেশকে কিছু দেওয়ার। যতদিন খেলবো এই তাগিদটা সবসময়ই থাকবে। নিজেকে প্রস্তুত করছেন কিনা, কাজের ব্যাপারে সৎ কিনা; এসব মেইনটেইন করতে হবে, অন্যথায় আপনি ওই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। ইতিবাচক থাকা, তাগিদ অনুভব করার চেষ্টা করি। টিমের ভালোর জন্য যা যা করা দরকার তার জন্য আমি সবসময়ই প্রস্তুত থাকি।







