নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় সাময়িকভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়বে এবং সার্বিক প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বাড়তে পারে। পর্যায়ক্রমে বেতন বৃদ্ধি হবে বলে মাত্রাতিরিক্ত দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাবনা আপাতত নেই।
তবে বেতন বৃদ্ধির অজুহাতে বাজারে দাম বাড়ানোর প্রবণতায় নিম্ন আয়ের মানুষের বিড়ম্বনায় পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা।
দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর নতুন পে স্কেলের প্রভাব নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে এসব কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ।
ড. সালেহ উদ্দিনের মতে, নতুন পে স্কেলে দ্রব্য মূল্য অনেক বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি না পাবে না। তবে বাজার দরে বেতন বাড়ার কিছুটা প্রভাব পড়বে বলেই মনে করেন তিনি। কারণ বেতন বাড়ার ফলে খরচও বাড়বে। আর পণ্য বাজার বিশেষ করে নিত্য পণ্যের বাজারে বিক্রেতারা নানা অজুহাতে দাম বাড়ায়।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সরকারি পর্যায়ে বেতন বাড়ানোর অজুহাতে বিক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বাড়ছে। তাই সব মিলিয়ে ব্যবসায়িরা এসবের সুযোগ নিতে পারে।
শুধু নিত্য পণ্য নয় বাড়ি ভাড়া, পরিবহনসহ সেবাখাতেও ব্যয় বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন ড. সালেহ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর মনে করেন, এই দাম বৃদ্ধির সার্বিক প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতিও কিছুটা বাড়বে। কারণ তখন বাজারে টাকার সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। খাদ্য ও সেবাখাতে দাম বৃদ্ধির ফলেই এটা হবে বলে মনে করেন তিনি।
বেতন-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বাহানায় দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ সমস্যায় পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কারণ নতুন পে স্কেলে শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই বেতন বাড়ছে।
অর্থনীতির অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘যতোটা আশঙ্কা করা হচ্ছে নতুন পে স্কেল দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতিতে ততোটা প্রভাব ফেলবে না। কারণ বেতন বাড়বে পর্যায়ক্রমে। তবে এটাও ঠিক যে এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগের তুলনায় বেশি ব্যয় করবে।
বিশেষ করে মধ্য ও নিম্ন আয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগের তুলনায় বেশি খরচ করবেন। এটা হলে স্বল্প মেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে।
‘উৎপাদন ও বাজারে যথেষ্ট সরবরাহ থাকলে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিন্তু দেশীয় বাস্তবতায় তা না হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এ পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে এবং এর প্রভাবে বাড়বে মুদ্রাস্ফীতি।’







