সকাল থেকে বিসিবি পাড়ায় ক্লাব কর্মকর্তাদের আনাগোনা। কেউ ফুল নিয়ে আসছেন। কেউ মিষ্টি। দেয়ালে-দেয়ালে টাঙানো শুভেচ্ছাবার্তা। নাজমুল হাসান পাপন আরেকবার বোর্ডের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন, এই দৃশ্যে যেন সেই বার্তা। সন্ধ্যা নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষিত হওয়ার পর বলে গেলেন, সব কিছু নতুন করে সাজাতে চান।
‘সভাপতি হিসেবে আর দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু সবাই আমাকেই চাইছে। তাদের একটাই কথা সামনে কঠিন সময়। আমাকে দরকার। এসেছি যখন, তখন আবার নতুন করে সাজাতে হবে।’
সাউথ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ সবকটি ম্যাচ হেরেছে। ঠিক তার পরই নির্বাচন হল। নির্বাচন নিয়ে বিসিবি সভাপতিকে অনেক আইনি ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। সবকিছু মিটে যাওয়ায় কমিটি নিয়ে তিনি সন্তষ্টু কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন, ‘নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে এখন পর্যন্ত সব ঠিক আছে। কিন্তু সাউথ আফ্রিকা সফরের পর ক্রিকেট নিয়ে সব কিছু ওলট-পালট মনে হচ্ছে।’
সব কিছু ওলট-পালট লাগলেও এই সফর বোর্ড সভাপতিকে নতুন করে চিন্তা করার উপলক্ষ এনে দিয়েছে, ‘শেষ সফরের পর এটুকু নিশ্চিত আমাদের এখনো অনেক কিছু নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে।’
২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে নাজমুল হাসানের নেতৃত্বাধীন কমিটি। এই চার বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেকে অন্যতম সেরা সফল সভাপতিদের কাতারে দাঁড় করান নাজমুল হাসান। তার সময়ে বাংলাদেশ দল যে সাফল্য পেয়েছে কয়েক বছর আগেও তা ছিল অকল্পনীয়। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরেও উঠে আসে।
এবারের নির্বাচনে তার বিপক্ষে কোনও প্রার্থী ছিলেন না। নির্বাচিত পরিচালকরা সবাই একবাক্যে তাকে সভাপতি হিসেবে মেনে নিয়েছেন। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তৃণমূল ক্রিকেটে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নজর দেয়ার কথা বলেন।
‘রিজিওনাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গড়া হবে ছয় মাসের মধ্যে। এটাই হবে আমাদের প্রথম কাজ। তৃণমূলের চাহিদা অনুযায়ী ক্রিকেটের ভালোর জন্য সবকিছু করা হবে। আমি তিন মাসের মধ্যে তৃণমূলে সবকিছু ঠিক করতে চেষ্টা করবো।’ বলেন নাজমুল।
নাজমুল এবার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। প্রয়োজনে সাংবাদিকদের মতামত নিয়েও কাজ করবেন, ‘আমি আগেও একবার সাংবাদিকদের ডেকেছিলাম। কিন্তু কেউ কিছু বলতে চায় না। এমন অনেক সাংবাদিক আছেন, যাদের ক্রিকেট জ্ঞান অনেক। এমন অনেকে আছেন, যাদের সঙ্গে বসলে আমিও কথা বলতে পারবো না। তাদের মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি সেটা নিব।’
নাজমুল হাসানের আমলে কোচকে দেয়া হয়েছে অবাধ স্বাধীনতা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে কথাও শুনতে হয়েছে। কোচকে সামলানোর মতো কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে কি না, এমন প্রশ্ন উঠলে নাজমুল সরাসরি ‘না’ বলে দেন, ‘আগের বোর্ডের লোকজন দলে বেশি হস্তক্ষেপ করতো। আমি সেটা করি না। আমাদের হেড কোচ একজন পেশাদার মানুষ। আমিও পেশাদার। এই পেশাদারিত্ব বজায় রাখবো।’
‘অনেকের ধারণা খেলোয়াড় নির্বাচন কোচ করে। এই ধারণা ভুল। বাংলাদেশে কোন ছেলে কেমন খেলে, সেটা কোচ জানে না। জানে নির্বাচকরা। তারা একটা স্কোয়াড করে দেয়, কোচ তার ওপর একটা পরিকল্পনা করে।’







