‘ব্ল্যাক হোল’, বা কৃষ্ণগহ্বর জিনিসটার মহাকর্ষ বল এতটাই তীব্র যে, কাছাকাছি আসা সবকিছুকেই সে নিজের দিকে টেনে নেয়। ভয়াবহ আকর্ষণে ধ্বংস হয়ে যায় বিশাল বিশাল নক্ষত্রও।
এতদিন এ বিষয়টি তত্ত্বীয়ভাবে প্রমাণিত হলেও এবার এমন একটি ঘটনা পরিষ্কার চাক্ষুষ করলেন বিজ্ঞানীরা। মহাকর্ষীয় বলে কাছে টেনে ব্ল্যাক হোল আস্ত একটি তারা খেয়ে ফেলছে – এমন একটি ঘটনার ইনফ্রারেড বা অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রথমবারের মতো মহাকাশ বিজ্ঞানীরা রেকর্ড করেছেন।
কোনো নক্ষত্র গিলে নেয়ার পর ব্ল্যাক হোল থেকে উজ্জ্বল মক্তিশালী আলো তীব্র বেগে বেরুতে থাকে। সেই আলো অবলোহিত তরঙ্গের প্রতিধ্বনি তুলে মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে। সেই তরঙ্গই ধরতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা।
চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে পরপর দু’টি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। একটি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা থেকে। আরেকটি চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তবে সেটিও নাসার ওয়াইড-ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে এক্সপ্লোরার (ওয়াইজ) টেলিস্কোপ থেকে তথ্য নিয়ে তৈরি।
মহাজাগতিক এই ঘটনাকে বলা হয় ‘স্টেলার টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্ট’। একটি তারা যখন একটি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের এতটা কাছে চলে যায় যেখান থেকে ব্ল্যাক হোলের আকর্ষণ কাটিয়ে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়, ওই অবস্থায় তারাটি প্রসারিত হতে থাকে। অর্থাৎ টান খেয়ে লম্বা হতে থাকে এবং একসময় টানের চোটে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এই অবস্থায় ব্ল্যাক হোলটি ব্যাপক পরিমাণে অতিবেগুনি ও এক্সরে সহ নানা ধরণের শক্তি নির্গত করতে থাকে। তীব্র বেগে নির্গত সেই শক্তির তোড়ে কাছাকাছি থাকা সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়।
তবে সেই সীমানার বাইরে ধূলিকণার একটা জাল ছড়িয়ে পড়ে। সেই মেঘের মতো ধূলিকণা নক্ষত্রের মৃত্যুকালে বেরিয়ে আসা আলোকরশ্মি শোষণ করে আরও বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি হিসেবে তা ছড়িয়ে দেয় দূর থেকে দূরে। সেই অবলোহিত রশ্মিই নাসার বিশেষ টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে।
নাসার গবেষণাটির প্রধান জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো শোয়ার্ট ভ্যান ভেলজেন জানান, তাদের পরিচালিত গবেষণায় তিনটি ব্ল্যাক হোলকে নক্ষত্র গিলতে গিয়ে ধরা পড়েছে। অন্যদিকে চীন আরও একটি ব্ল্যাক হোলের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করেছে।







