পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘রোয়ানু’। দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে চার নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ আরো ঘনিভূত হয়ে ক্রমেই উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে।
দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মঙ্গলবার দুপুরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। পরে এটি পরিণত হয় নিম্নচাপে। বুধবার গভীর রাতে তা গভীর নিম্নচাপে রূপ নেয়। বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ গভীর নিম্নচাপটি সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। এর প্রভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পাহাড়ী ভূমিধসসহ খুলনা, বরিশাল বিভাগে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ নাসিমা ইমাম বলেন, লঘু নিম্নচাপটা আরো শক্তিশালী হয়ে আগে যে জায়গায় ছিলো, সেই এলাকাতেই এখন ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে। এটার নাম দিয়েছি রোয়ানু। এটা পরে আরো কিছুটা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র নামকরণ করেছে মালদ্বীপ। ‘রোয়ানু’ অর্থ নারকেলে ছোবা দিয়ে তৈরি দড়ি। ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। এটি দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় গভীর সাগরে না গিয়ে সব ধরনের নৌযান ও মাছ ধরা ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নাসিমা ইমাম আরো বলেন, ভারি বর্ষণের সতর্কতা জানিয়েছি। এখন মোটামুটি ঘণ্টায় আট কিমি বেগে সেটা সামনের দিকে এগোচ্ছে। সবসময় সেটার গতি যে তেমনই থাকবে তা নয়। কবে ঠিক ঘূর্ণিঝড়টা আসবে সেটাও নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে দুই-একদিনের মধ্যেই আসতে পারে।
গত বছর জুলাই মাসে মৌসুমী নিম্নচাপ থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত করে। এর প্রভাবে সারা দেশেই ভারি বর্ষণ হয়েছিলো। আবাহওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী এবারও ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ আরো ঘনিভূত হয়ে উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ চট্টগ্রাম উপকূল দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










