রাজধানীর ধানমন্ডির ২৮ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাসায় আফরোজা বেগম (৬৫) নামে এক নারী ও তার মেয়ে গৃহকর্মীকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় আটক একজনের নাম বাচ্চু, আরেকজন ইলেক্ট্রিশিয়ান বেলায়েত।
বাচ্চু নিহত ওই নারীর পরিবারের পূর্ব পরিচিত হিসেবে একই বাসায় থাকতেন। এছাড়া নিহত নারীর মেয়ের জামাই ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি শিল্পপতি মনির উদ্দিন তারিম।
নিরাপত্তাকর্মী নূরুজ্জামান জানান: নিহত আফরোজা বেগমরা ওই বিল্ডিংয়ের ডি-ফোর ফ্ল্যাটে থাকতেন। গ্রামের পূর্ব পরিচিত বাচ্চু নামের একজন লোক তাদের সাথেই থাকতেন। বাচ্চু প্রায় সাড়ে তিনটার দিকে নতুন আরেক গৃহকর্মীকে নিয়ে বাসায় আসেন। এরপর সাড়ে পাঁচটার দিকে বাচ্চু বাসা থেকে নেমে আসে। এর ঠিক আধা ঘণ্টা পরেই বাসা থেকে নেমে আসে নতুন ওই গৃহকর্মী। টাকা কম হওয়ায় সে কাজ করবে না বলে চলে যায়।
নিহত আফরোজা বেগমের পরিবারের সদস্যরা বলছেন: বাচ্চু আমাদের পরিবারের বিশ্বস্ত। সে এই খুন করতে পারে বলে আমাদের মনে হয় না। নতুন ওই গৃহকর্মী খুন করে থাকতে পারে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার(এডিসি) এজিএম আজিমুল হক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: দুই ঘরের ভেতরের মেঝে থেকে দু’জনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ঘরের দু’টি আলমারি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে বিষয়টি চুরি বা ডাকাতির কারণে হয়েছে কিনা তা তদন্তের পর বলা যাবে।

পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেয়েছি। বাসাটিতে যে নতুন গৃহকর্মী এসেছিল, তাকে আমরা সন্দেহ করছি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনও তার পরিচয় জানা যায়নি। যে ব্যক্তি তাকে এই বাসায় নিয়ে এসেছিল, তার মাধ্যমে ওই নতুন গৃহকর্মীর তথ্য এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ছবি পেয়েছি।’
নিহত আফরোজা বেগমের জামাই শিল্পপতি মনির উদ্দিন তারিম বলেন, ‘বাসা থেকে মোবাইল ও স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে।’ পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাসা থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের হত্যা করা হতে পারে। তাদের ফ্ল্যাটের আলমারি খোলা ও এলোমেলো ছিল।








