ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে মশা নিধন ও কার্যকর ঔষধ ছিটানো নিয়ে সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয় একে অপরের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করলে মশা মারবে কে? সে প্রশ্ন রেখেছেন হাইকোর্ট।
ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে দুই সিটি করপোরেশনের করা কয়েকদিনের সমন্বিত কার্যক্রম বিষয়ে আদালতকে জানানোর পর বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এমন মন্তব্য করেন।
এরপর আদালত এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে মশা মারার কার্যকর ওষুধ আনতে কতদিন সময় লাগবে তার সুনির্দিষ্ট তারিখ বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে জানাতে দুই সিটি কর্পোরেশন ও রাষ্ট্রপক্ষের প্রতি নির্দেশ দেন।
এ সময় আদালতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু ও দক্ষিণ সিট করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়েরা ফায়রোজ।
শুনানিতে আদালত বলেন: সিটি কর্পোরেশনের উচিৎ ছিল ফেব্রুয়ারিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করার পর সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো। এগুলোর কিছুই হয়নি। হলে হয়তো এ পরিস্থিতি হতো না। আমরা রুল দেওয়ার পর আপনাদের (সিটি করপোরেশনের) ঘুম ভাঙলো। আর তখন কয়েকদিন উল্টাপাল্টা কথা বলেছেন। আর এখন সরকার ধমক দিয়েছে, তাই আপনারা চুপ করে গেছেন।
এক পর্যায়ে আদালত বলেন: আজকে দেখলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (ডিএস) উপ-সচিবের স্ত্রী ডেঙ্গুতে মারা গেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী করে?
‘‘সিটি করপেরেশন, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মশা নিধন ও কার্যকর ঔষধ নিয়ে একে অপরে ধাক্কাধাক্কি করলে মশা মারবে কে?’’
এরপর আদালত মশা মারার কার্যকর ওষুধ আনতে কতদিন সময় লাগবে তার সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানোর নির্দেশ দেন।
গত ২২ জুলাই হাইকোর্ট ঢাকা মহানগরীর ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহী রোগের বিস্তার রোধে মশা নির্মূলের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে দুই সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ২৫ জুলাই হাইকোর্টে তলব করেন।
সেই অনুযায়ী দুই সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ২৫ জুলাই সকালে আদালতে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সেদিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শরীফ আহমেদ বলেন, আমাদের এ সিটি কর্পোরেশনে এক কোটির বেশি লোক। আর ১০টি জোনে ৭৫টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রমে জনবল মাত্র ৪২৯ জন।
তখন আদালত বলেন, এ বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এত কেন?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, এটা একটা বৈশ্বিক সমস্যা। ক্লাইমেট সেনসেটিভ ডিজিজ। আর এ বছর আমাদের দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত, সর্বোচ্চ আর্দ্রতা ও সর্বোচ্চ উষ্ণতা ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমনটা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রভাব চলছে।
এরপর আদালত মশা নিধনে দুই সিটির সমন্বিত অভিযানের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়ে এবিষয়ে ৩০ জুলাই পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। সে ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টির উপর হাইকোর্টে শুনানি হয়।
রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ও এডিস মশা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসার পর বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারর্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৪ জুলাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এর আগে আদেশ দেন।










