ধর্ষকের সঙ্গে রাজাকারের তফাৎ নেই উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, ‘ধর্ষণের প্রচলিত আইন সংশোধন করা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি৷ শিশু ও নারী নির্যাতন আইনের সংস্কার প্রয়োজন। একজন ধর্ষকের সঙ্গে একজন রাজাকারের কোন তফাৎ নেই। যদি মানবতাবাদী অপরাধের জন্য একজন রাজাকারের ফাঁসি হয়, তাহলে ধর্ষকেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যখন বিমানবন্দরের মতো ভিআইপি রোডে ধর্ষিত হন, তখন প্রশ্ন থেকেই যায় বাংলাদেশে ধর্ষকরা কি বৈধতা পেয়েছেন। বিশ্ব দরবারে আমাদের অপমানিত হতে হয় যখন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হন। আমাদের নারীদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গড়ার জন্য আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কাজ করে যাবে।’
এছাড়াও রাজধানীর কুর্মিটলা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের সাথে জড়িত ধর্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানায়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ এস এম মাকসুদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূইয়া, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক।
এসময় ধর্ষকের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে সরকারকে আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষকরা।
উপাচার্য বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিপীড়নের মধ্যে দিয়েই যেন এ ধরণের ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটে। ভবিষ্যতে আর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি কেউই হতে চাই না। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে এগিয়ে এসেছে অন্যান্য সকল অন্যায় অবিচারেও তারা সমানভাবে আগাবে এটাই প্রত্যাশা।’
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আমরা একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এখানে একত্রিত হয়েছি। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ বছর ধরে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। কিন্তু এধরনের ন্যাক্কার জনক ঘটনা কখনও দেখিনি। এ ঘটনায় আমরা গভীর শোকাহত এবং ওই ছাত্রীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আমরা ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার ছিলাম। এখন ওই মেয়েটির শারিরীক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।’







