একটি শিক্ষা তখনই পূর্ণ হয়, যখন তার সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষা যুক্ত হয়-এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতির কারণে এখন কওমি শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে চাকরি পাবে। বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে পারবে।
রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি সমমান করায় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা জানাতে আয়োজিত ‘শুকরানা মাহফিলে’র আয়োজন করে ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।
সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন।
সবাই জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা সত্যিকারের ইসলাম ধর্মের মানুষ, তারা কখনও জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ করতে পারে না; বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না।’
‘‘যারা জঙ্গিবাদ করে তাদের কোনো দেশ নেই, ধর্ম নেই। ওআইসির জঙ্গিবাদ বিরোধী এক সম্মেলনে বলেছিলাম, জঙ্গিবাদ দমনে সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মা একসঙ্গে কাজ করবে। বাংলাদেশ হবে একটা শান্তিপূর্ণ দেশ।’’
লাখো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়েও কথা বলেন তিনি।
বলেন, ‘‘সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নানান সময়ে নানান অপপ্রচার চালানো হয়, সেসবে বিশ্বাস করবেন না। সেটা নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। সেটা দিয়েই বিচার হবে অপপ্রচারকারীর। দেশের শান্তি বিঘ্নিত হোক তা আমরা কখনোই চাইনা। দেশে শান্তি থাকলে উন্নতি হবে, উন্নতি হলে মানুষ সুখে থাকবে।’’
কওমি সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ইসলাম ভাতৃত্বের ধর্ম, সেটা শান্তির পথ দেখায়। আর সেই শিক্ষা যারা দেয় তারা কেন অবহেলিত থাকবে? যাদের কোনো জায়গা নেই, সেই সব এতিমকে আশ্রয় দেন আপনারা। এর থেকে বড় আর কি হতে পারে! আর আপনাদের স্বীকৃতি দিবো না তা হতে পারেনা।
তিনি যোগ করেন, লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এই মাধ্যমে পড়ে, তারা কোথায় যাবে? এখন তারা দেশে বিদেশে চাকরি পাবে, বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে পারবে। তবে আজ আমরা স্বীকৃতি দিলাম, কাল আবার কেউ ক্ষমতায় এসে এটা বন্ধ করে দিতে পারে। আমার চাওয়া আপনারা এমনভাবে কাজ করবেন যেন তারা শিক্ষা পেয়ে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে তার হাতে শুকরানা স্মারক তুলে দেন শফি হুজুর এবং শফি হুজুরের হাতে সংসদে কওমি সনদের বিলের কপি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সম্প্রতি সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি সমমানের স্বীকৃতি দেয়।
২৭ অক্টোবর বেফাক কার্যালয়ে শুকরিয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার কথা ঘোষণা দেন হাইয়াতুল উলিয়ার নেতারা।
সেই ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশের কওমিপন্থী ৬টি বোর্ড নিয়ে গঠিত আল-হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিআাতিল কওমিয়া বাংলাদেশের (হাইয়াতুল উলিয়া) শুকরিয়া মাহফিল হবে আগামীকাল রোববার।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের সমমান দিয়ে ‘কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল, ২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস হয়।








