সম্প্রতি নেপলের খসড়া সংবিধান জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। ১৬ দফা চুক্তির ভিত্তিতে প্রধান চারটি রাজনৈতিক দল বহু প্রতিক্ষিত সংবিধান তৈরি ও জারির কাজ শুরু করেছে। নেপালে ৮১বছরের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের মধ্যে বিবাদমান প্রধান প্রধান ইস্যু যেমন সরকার কাঠামোর ধরণ, বিচার বিভাগ, নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়গুলো চিহ্নিত করে নতুন সংবিধান তৈরিতে একমত হয়েছেন।
দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বিধ্বস্ত নেপালের পুনর্নির্মাণ ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা ক্ষমতাশীল ও বিরোধীদলগুলোকে একত্রিত করেছে। সংবিধান প্রণয়ন এবং প্রক্রিয়াগত বাস্তবায়নকে প্রধান গুরুত্বে পরিণত করেছে। এই বছরের শেষ দিকে নতুন সংবিধান হবে বলে রাজনৈতিক দলগুলো দৃঢ় আশাবাদী।
তারপরও নতুন খসড়া সংবিধান প্রণয়ন এখন কঠিন কাজ। প্রাথমিক কাজ হলো বিভিন্ন ধারায় যে বিতর্ক আছে সেগুলো চিহ্নিত করা।
আরো বিস্তারিতভাবে আলোচনার জন্য সিএ’র কাছে নতুন খসড়া উপস্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে এটি রাজনৈতিক দলগুলোসহ বিভিন্ন সংস্থা, বুদ্ধিজীবীসহ প্রায় সব পক্ষের কাছে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই দল, সংস্থা ও মানুষরা এখন সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় বিশেষ বিশেষ সংযোজন ও বিয়োজনের জন্য তাদের আওয়াজ তুলছেন যেগুলো নিয়ে অতীতে দলগুলোর মাঝে অনেক বিরোধ হয়েছিলো।
নতুন খসড়া সংবিধানের সব থেকে বিতর্কিত ইস্যু হলো বর্ণ বিধান ও প্রস্তাবিত নতুন আট প্রদেশের নামকরণ। দলগুলো তাদের ১৬ পয়েন্ট চুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে নেপাল আটটি স্বতন্ত্র প্রদেশে বিভক্ত হবে এবং এই প্রদেশগুলোর প্রাদেশিক পরিষদকে নামকরণের অধিকার দেয়া হবে। দলগুলো এখন সংবিধান জারির আগে এই প্রদেশগুলোর সীমানা নির্ধারণ করে প্রদেশগুলোর নাম দেয়ার জন্য সিএকে চাপ দিচ্ছে।
যারা বিশ্বাস করেন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে তারা সংবিধানের নতুন ধারাটিতে একটি ধাক্কা খেয়েছেন। ফেডারেশন অব নেপালিস জার্নালিস্টস, নেপাল বার অ্যাসোসিয়েশন এবং আরো অনেক বিশেষজ্ঞ ভয় পাচ্ছেন যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে তৈরি নতুন বিধান যা দিয়ে কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যম পরিচালনা করতে পারবেন তা বিশ্বে প্রচলিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ধারণাকে বিঘ্নিত করবে। তাই এই ইস্যুটির যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করা উচিৎ।
আরেকটি ইস্যু হলো সংবিধানের প্রস্তাবনায় নেপালকে ধর্মনিরপেক্ষ রাখা উচিৎ নাকি নেপাল এমন একটি রাষ্ট্র হবে যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে। অর্থাৎ যেখানে ব্যক্তি তার নিজস্ব বিশ্বাস অনুরসণ করতে পারবে। প্রাথমিক খসড়া তৈরির সময় এই বিষয়ে চলা বিতর্ক সিএ’র অনেক সময় নষ্ট করছিলো। আর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেমন আরপিপি-নেপাল ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা নেপালকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
তারা প্রস্তাব করছেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানে প্রস্তাবিত ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধ না করা এবং বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষদের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে এমন দেশ গঠনে সহয়তা করা।
খসড়া সংবিধানে নারী অধিকার বিশেষ করে সন্তানদের নাগরিকত্ব দেয়ার ইস্যুটিও অনেক গুরুত্বসহ দেয়া হচ্ছে। নারীকে তার সন্তানকে নাগরিকত্ব দেয়ার ক্ষমতা অবশ্যই থাকতে হবে-এই বিষয়টি প্রধান প্রধান কর্মসূচিতে আলোড়ন তৈরি করেছে।
তাই বিদ্যমান পরিস্থিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে আলোচনা করা হয়েছে এমন বিষয়, বিতর্কগুলোর সংযোজন ও বিয়োজন করার এখনই সময়। সংবিধান জারির আগেই এসব আলোচনা ও বিতর্কগুলো প্রধান প্রধান রাজনীতিকদের চিহ্নিত করতে অবশ্যই সাহায্য করবে। নতুন নেপালের জন্য টেকসই ও দীর্ঘ মেয়াদী নতুন সংবিধান প্রণয়নে সংবিধানের বেশিরভাগ বিতর্কিত ইস্যুগুলোর আপসে সমাধানের বিষয়ে দলগুলোর সচেতন থাকতে হবে।
সব পক্ষের ঐক্যমতে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে দলগুলোর উচিৎ এই বিষয়গুলো বিবেচনা করা এবং দক্ষতার সঙ্গে সেইগুলো চিহ্নিত করা।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের
নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে
প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







