‘দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন’ নামে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ কতৃর্ক একটি আইনের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয় নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এটি চুড়ান্তভাবেই বৈষম্যমূলক আর ব্যাপক বিনিয়োগ বিরোধী বলে আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে। আবার অনেকেই একে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল্যবোধ বিরোধী বলছেন।
আমাদের বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রবাসীদের অবদানের প্রতি চপেটাঘাত বলে প্রবাসীদের অনেকের আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের কথা সরকারের সকল মহলকে জোরেশোরে বুক ফুলিয়ে গর্ব করে বলতে শোনা যাচ্ছে।
আগের সরকারগুলোও ব্যতিক্রম ছিলো না। প্রবাসে লোকসংখ্যার অনুপাতে রেমিটেন্স প্রবাহ থেকে অর্জিত রিজার্ভ নিয়ে কৌশলে গর্ব ও তা প্রচারের বিষয়টি তখনকার পত্রপত্রিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কথা। বাংলাদেশের রাজকোষের রিজার্ভের বিষয়টি তখনো এবং এখনো কৌশলে জোরগলায় বলা হয়ে থাকে এবং পত্রিকায় লেখা হয়ে থাকে। গ্রাম ও শহরের সাধারণ কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষদের বুঝতে বা জানতে পারার কথা নয় যে-তাদেরই মতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রক্ত পানি করা প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স প্রবাহ অর্থনীতির চাকাকে একদিকে যেমন সচল রাখে অন্যদিকে রাজকোষের রিজার্ভের সেটাও অন্যতম কারণ।

সাধারণ লেখাপড়া জানা নিম্ন আয়ের অনেক লোকদেরও ব্যাপক প্রপাগান্ডার কারণে এবিষয়ে তেমন বেশী জানতে দেখা যায় না। ব্যাপক সচেতনতা সে তো আরো অনেক দূরের ব্যাপার। রাজকোষের রিজার্ভ নিয়ে নিকট অতীত ও ইদানিং কথামালার ফুলঝুরি আর গাল দিয়ে যেভাবে ফেনা ঝরিয়ে কায়েমী স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো প্রচার করতে থাকে-তাতে মনে হয় বাংলাদেশে টাকা এখন রাস্তাঘাটে আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।
সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহল প্রবাসীদের রক্তে ভেজা রিজার্ভের টাকা বিভিন্ন কৌশলে পাচার,রাজকোষের অর্থচুরি কিংবা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নানাধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস সাধন যা এখন প্রতিদিনের খবর।
অন্যদিকে ‘সাগর চোরদের’ এখনো গাড়ী হাঁকিয়ে মাথা উঁচু করে চলতে দেখা গেলেও দেশের দুইকোটি কৃষকের বিরুদ্ধে ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত মামলাজনিত কারণে ঘর ও গ্রাম ছাড়ার খবরও দেখা যায়। দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড কৃষি হলেও কৃষকদের এভাবে গৃহত্যাগ আর নিরাপত্তাহীনতা পিলে চমকানোর মত। এসব কৃষকদের অপরাধ দেশের খাদ্যোৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য,পরিবারের দূ’বেলা দু’মুঠো চালডালের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য ত্রিশ হাজারেরও কম ব্যাংক ঋণ গ্রহন। অথচ কখনো খরা,কখনো অতি বৃষ্টি,বন্যাসহ পরিবেশ দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি দেশের সকলের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহিত থাকার কথা। অবশ্য এসব খবর পত্রিকার ভেতরের পাতায় এমনভাবে লেখা থাকে-তা কারো দৃষ্টিগোচর হওয়ার কথা নয়। 
এমতাবস্থায় দ্বৈত নাগরিক আইনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের প্রতি এবং তাদের পরবর্তি প্রজন্মের প্রতি যে বৈষম্যমূলক ও বৈমাত্রেয়সুলভ আচরণ দেখা যায়-তা মেনে নেয়ার মতো নয়। আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির বাইরে এসব গণবিরোধী অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী অভিবাসী সমাজ হতাশ। উন্নতদেশগুলোতে যে কোন ধরনের ডিসক্রিমিনেটরি এসব আইনের চিন্তা করাও অনেকে নৈতিকতা বিরোধী অপরাধ মনে করে।
১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮২’সাল পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনের জন্য ছাত্রসংসদের নির্বাচিত সদস্যদের একদিকে বহিঃস্কার অন্যদিকে মামলা দায়ের করে জেল জরিমানার মতো।
আধুনিক চীন ও ভারতের উত্তরণের পেছনে:
আধুনিক চীনের প্রতিষ্ঠাতা দেং জিয়াও পিংয়ের সংস্কার আন্দোলনের পর পর চীনের তরুণ অংশটি ইউরোপ,নর্থ আমেরিকা,অস্ট্রেলিয়া গমন করে উচ্চশিক্ষা সমাপন করে চীনে ফেরত গেলে এবং প্রবাসী চীনাদের বিনিয়োগ ও প্রবাসীদের সহযোগীতায় বহুজাতিক সংস্থাগুলোর বিনিয়োগ দস্তুরমতো বিস্ময়কর।
প্রবাসীদের কল্যাণে ও সমস্যা সমাধানে চীন সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নানা সুযোগ সুবিধাকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে আধুনিক চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। আধুনিক ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনের পেছনেও সিলিকন ভ্যালিসহ প্রবাসীদের সম্মিলিত শক্তি মূলত মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে। চীন ও ভারতের সামগ্রিক উত্তরণের পেছনে প্রবাসীদের ত্যাগ আর শ্রমের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহল কর্তৃক স্বীকৃত। এ নিয়ে কেউ কোথাও কাউকে দ্বিমত প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।
ক্ষোভ, হতাশা, জটিলতা ও কথামালার ফুলঝুরি:
প্রবাসীদের নিয়ে বাংলাদেশে মুখে কথার ফুলঝুরি ছড়ালেও ভারত ও চীনের মতো এ ধরণের ব্যাপক সহজলভ্য সুযোগ সুবিধা আদৌ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কিনা-তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
এমন অনেক প্রবাসী আছেন যারা সুযোগ পেলে দেশের উন্নয়নে চোখ বুঝে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। অর্থবিত্ত নয়-মা মাটি মানুষ আর দেশের ঋণশোধ করার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের মানদন্ডে বিষয়টি প্রবাসী সমাজকে অহরহ বলতে দেখা যায়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার জন্য তার যথাযথ বাস্তবায়ন এখনো সুদূরপরাহত বলে মনে করে প্রবাসের বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ লোকজন।
পরিতাপের বিষয় ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন’কে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের ট্রাইব্যুনাল জজ ব্যারিস্টার নজরুল খসরু এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন অনুমোদন ও কার্য্যকর হলে বহির্বিশ্বে বসবাসরত লাখ লাখ বাংলাদেশের সন্তান হারাতে পারেন নাগরিকত্ব। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক প্রবাসী দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিকে পরিণত হবে। তাছাড়া বাংলাদেশে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বে অনেক মানুষ। তিনি বলেন-বাংলাদেশের সংবিধানে কোন নাগরিককে আইন করে রাষ্ট্রহীন করার প্রভিশন নেই।’
২৩ মে এক পত্রিকায় সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হলে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
কয়েক যুগের ব্যবধানে গড়ে উঠা প্রবাসীদের প্রাণের দাবী:
দীর্ঘ কয়েক যুগের ব্যবধানে কতো সরকার আসলো গেলো। প্রবাসীদের প্রাণের অনেক দাবী-দাওয়ার বিষয়টি নিকট অতীত ও বর্তমান সরকারের জানার কথা। নেতাদের মৌখিক আশ্বাস আর কথায় কথায় কথামালার ফুলঝুরি এবং বক্তব্যের নানাকথা দেশ-বিদেশের বাংলা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের কথা কে না জানে!
দেশের যে কোন বড় নেতা , ছোট নেতা বা পাতি নেতা বিদেশে যেই আসুকনা কেনো-ক্যাটাগরী অনুসারে গণসম্বর্ধনা নেওয়ার জন্য সে কি আবদার! সম্বর্ধনা পাওয়ার জন্য চাতক পাখির মতো হাঁ করে চেয়ে থাকে।কারণ দেশের প্রচার ও গণমাধ্যমে তা প্রদর্শিত ও প্রচারিত হলে দেশে কদর বেড়ে যাওয়ার প্রত্যাশায়। গনসম্বর্ধনাত্তোর সভামঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে নেতাদের আশার বানী শুনতে শুনতে প্রবাসীরা ক্লান্ত। আশার কুহকে দুলতে আর রাজী নয় প্রবাসী অভিবাসী সমাজ। প্রবাসীদের আতিথেয়তা,সহজ সরল আচরণ,সম্মান প্রদর্শনকে অনেক নেতারা দুর্বলতা মনে করে। নেতাদের একই ধরনের সুর প্রবাসীদের ব্ল্যাকমেলিং করার মতো বলে এখন প্রবাসী সমাজে রীতিমতো আলোচনা সমালোচনা চলে।
কয়েক যুগেরও বেশী সময় ধরে বিশ্বব্যাপী প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার সমূহ আদায়ে প্রবাসীদের প্রাণের দাবীগুলো চমৎকার কায়দায় লিপ সার্ভিস ছাড়া অনেকটা উপেক্ষিত বললেই চলে। প্রবাসীদের সাথে দেশের অর্থনীতির আরেক প্রা্ণ কৃষক,কলকারখানার ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের সাথে সরকারের আচরণের ক্ষেত্রে বেশ সান্নিধ্য লক্ষ্য করার মতো।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের উত্থাপিত প্রানের দাবীগুলো যা উল্লেখযোগ্য তা হচ্ছে:
১) বিভিন্ন সেক্টরে বিদেশীদের পরিবর্তে জন্মসূত্রের প্রবাসী দেশপ্রেমিক দ্বৈত নাগরিক বা প্রবাসী বাঙালী বিশেষজ্ঞ,প্রশাসক ও দক্ষ কর্মী নিয়োগের নিশ্চয়তা বিধান ও তদনুযায়ী জাতীয় উন্নয়নে শরীক হওয়ার জন্য উৎসাহিতকরণ,কোটা ও ঘোষণা প্রদান।
২) বিভিন্ন দেশগুলিতে বাঙালী অধ্যূষিত শহরগুলিতে বাংলাদেশ বিমানের আগমন নির্গমন সুনিশ্চিত করা।বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্টানে পরিণত করতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়টি যেমন উপেক্ষিত-তেমনি এতো প্রবাসী বিশেষজ্ঞ থাকা স্বত্তেও অবিশ্বাস্য বেতনে বিদেশী নিয়োগের বিষয়টি প্রশ্নবোধকও বটে।
৩) বাংলাদেশের বিমান বন্দরগুলোতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। সকল প্রকার হয়রানী সমূলে উৎপাঠনের ব্যবস্থা গ্রহন। গন্তব্যস্থানে না পৌঁছানো পর্য্যন্ত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা সুসম্পন্ন করা।
৪) বাংলাদেশে প্রবাসীদের সকল সম্পদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করা।অনলাইনে জমিজমা,বাড়ীঘর সহ সকল কিছুর ট্যাক্স প্রদান করার সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে সুব্যবস্থা গ্রহণ।সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্টার ক্ষেত্রে কালবিলম্ব না করে জাতীয় স্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নিশ্চয়তা বিধান।যাতে প্রবাসীদের সম্পদের উপর দূর্বৃত্তরা হস্তক্ষেপ করার সাহস না পায়।
৫) বিদেশে দেশীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষনা করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহনের জন্য প্রবাসীদের দলমত নির্বিশেষে উৎসাহ প্রদান ও তদনুযায়ী আইন প্রনয়ণ।
৬) বিশ্বব্যাপী প্রবাসীদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা।পার্লামেন্টে প্রবাসীদের জন্য সংখ্যানুপাতে প্রতিনিধি নির্বাচনের দ্রুত সূব্যবস্থার নিশ্চয়তা বিধান ও তা কার্য্যকর করা। দেশের যে অবস্থা-দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় স্বার্থে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট সময়ের দাবী। অন্তত যাতে কোন না কোনভাবে যে কোন মূল্যে প্রবাসীরা প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেতে পারে।
৭) বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা বিবেচনায় জেলা,উপজেলা গণমূখী করা এবং তাতে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সুনিশ্চিত করা। জেলা উপজেলাগুলোতে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে প্রবাসীদের সুযোগ ও সুবিধার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা। জনসংখ্যার ভয়ঙ্কর উর্ধ্বগতি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরনে কখনো প্রদেশ গঠিত হলে তাতে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বের নিশ্চয়তা বিধান করা।
৮) বাংলাদেশের পর্য্যটন শহরগুলোকে বিভিন্ন দেশগুলিতে ব্যাপক প্রচার ও প্রমোশনের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক মিশনগুলো সংশ্লিষ্ট দেশে কর্মরত বাঙালি কমিউনিটি এক্টিভিস্ট,বিশেষজ্ঞ ও কর্মীদের নিয়ে একযোগে কাজ করার ব্যবস্থা গ্রহন করা।
৯) প্রবাসীদের জন্য বিনিয়োগ ব্যবস্থাসহ সর্বক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা।
১০) রাষ্ট্র যেহেতু জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেহেতু দেশের জনগণের নিরাপত্তা বিধান না করে কেবলমাত্র প্রবাসীদের নিরাপত্তা প্রদান নিতান্তই হাস্যকর।এমতাবস্থায় প্রবাসী সমাজ দেশের আপামর জনসাধারণের সর্ব্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি জরুরী মনে করে।
কারণ জননিরাপত্তা ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা একই সূঁতোয় গাঁথা। তাই রাষ্ট্র আর সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে বিদেশীদের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ভূমিকার ব্যাপকতার কথা সকলেই অবগত। তাই দেশে গনতান্ত্রিক আচরনের বিকাশ খুবই জরুরী। আমাদের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল্যবোধের প্রেক্ষাপঠে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অত্যাবশ্যক। প্রবাসী সমাজ ও দেশের নতুন প্রজ্ন্মকে দেশের সত্যিকার ইতিহাস জানানোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত সকলে নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে একটি বৃহত্তর বিরোধী মোর্চা গঠনও সময়ের দাবী।
সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের বিপরীতে পবিত্র ধর্মের অপব্যবহার রোধে প্রবাসী সমাজ সবসময় ঐক্যবদ্ধ।তাই বিদেশে দেশের ভাবমূর্তিকে তুলে ধরতে এসব খুবই জরুরী হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে।দ্বিমত থাকাটা স্বাভাবিক। ১৯৭১’সালের মূল্যবোধের প্রত্যাবর্তনের জন্য সময়ের বিচারে আন্তর্জাতিকভাবে নিঃসন্দেহে এসবকিছুই প্রশংসিত হবে।
সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে দেশপ্রেমিক প্রবাসী অভিবাসী সমাজ দেশ ও জাতির সামগ্রিক কল্যাণকামী। তাই প্রবাসের ও দেশের আগামী জামানার আগত প্রজন্মের স্বার্থে, দেশের অব্যাহত অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে,রেমিটেন্সের অব্যাহত গতিকে আরও এগিয়ে নিতে হলে, দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ধারাকে সচল রাখতে হলে প্রবাসীদের ও তাদের পরবর্তি আগত নাতি-নাতনীদের প্রতি বৈষম্যমূলক ও বৈমাত্রেয়সুলভ সকল আচরণ,কালাকানুন তথা ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন’ সংশোধন করে যুগোপযোগী করে গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুসারে সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য করে তুলতেই হবে। নতুবা সময়ের ব্যবধানে আমাদের অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখোমুখি হবে। পর্য্টন শিল্পে ধস নামবে।
আমাদের স্মরণ রাখতে হবে-প্রবাসীদের ঘামে ভেজা কষ্টার্জিত প্রেরিত রেমিটেন্স গ্লোবালাইজেশনের যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি আর দেশকে সচল রাখার মূল চালিকাশক্তি।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







