বিসিবি লাল দলের হয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে আউট হন মুশফিকুর রহিম। আউট হয়ে সোজা চলে যান একাডেমি মাঠে। নেটে ঝালিয়ে নেন ব্যাটিং। পরে সবুজ দলের হয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন আরেকবার। ‘দ্বিতীয় সুযোগে’ খেলে ফেললেন অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসও। তাতে অবশ্য হার এড়াতে পারেনি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল।
শনিবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ম্যাচে সাকিব আল হাসানের লাল দলের করা ৩২০ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৮৩ রানে গুটিয়ে গেছে সবুজ দল। দুভাগ হয়ে নিজেদের মধ্যে খেলা প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়ানডে অধিনায়কের দলের হার ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে।
৯ জানুয়ারি আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ার কথা। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি।
প্রস্তুতি ম্যাচ বলেই দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান মুশফিক। লাল দলের হয়ে চারে ব্যাট করলেও সবুজ দলের হয়ে নামেন ছয় নম্বরে। সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবেই। অবশ্য সঙ্গীর অভাবে ইনিংসটা বড় করতে পারেননি।
সবুজ দলের সর্বোচ্চ সংগ্রাহকও মুশফিকই। ৩২ রান আসে ওপেনিংয়ে নামা মোহাম্মদ মিঠুনের থেকে। ১৮ রানে আউট সৌম্য সরকার। ২৫ রান করেন নাসির হোসেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ব্যাটে আসে সমান ১৩ রান করে। অন্যদের কেউই দুঅঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।
এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির সভায় যোগ দিতে রাতেই সিডনিগামী বিমানে চড়তে হবে সাকিবকে। যে কারণে বোলিং না করেই স্টেডিয়াম ছেড়েছেন লাল দলের অধিনায়ক। সাকিবের অনুপস্থিতিতে বল হাতে জ্বলে ওঠেন পেসাররা। রুবেল হোসেন ৭ ওভারে মাত্র ২১ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। আবু হায়দার রনি ৯.২ ওভারে ৫৭ রানে ৩ উইকেট নেন। একটি করে উইকেট গেছে সানজামুল ইসলাম, আবুল হাসান রাজু, আবু জায়েদ রাহি ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দখলে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল প্রস্তুতি হয়েছে তামিম ইকবালের। টাইগার উদ্বোধনী লাল দলের হয়ে খেলেছেন ১০৪ রানের ইনিংস। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৭৫ বলে ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে তিনশ পেরোয় দলটি।
ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচ শুরু হবে বেলা ১২টায়। পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুতি ম্যাচও শুরু হয় ১২টায়। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা তামিমের সঙ্গে জুটি বাধেন এনামুল হক বিজয়। ব্যক্তিগত ২১ রানে মোস্তাফিজের বলে বোল্ড হন বিজয়।

লাল দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নামেন তিনে। ২৪ রানে তাসকিনের বলে সাইফউদ্দিনের তালুতে জমা পড়েছেন এ বাঁহাতি। পরের বলেই মুশফিকুর রহিমকে (০) বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তাসকিন। ডানহাতি পেসারের ফুললেন্থের ভেতরে ঢোকা বলে স্টাম্প উড়ে যায় মুশফিকের। প্রথম বলে আউট হওয়া ঘাটতি অবশ্য ইনিংসের সময়ই পোষানো চেষ্টা করেছেন মুশি, একাডেমি মাঠের নেটে অনুশীলন সেরে!
সাব্বিরের ব্যাটে আসে ২০ রান। দুর্দান্ত খেলতে থাকা ডানহাতি ব্যাটসম্যান সাইফউদ্দিনের হাতে কট অ্যান্ড বোল্ড হন। সোজা ব্যাটে ড্রাইভ করেন সাব্বির। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে মাটি থেকে অল্প উচ্চতায় বল তালুবন্দী করেন সাইফউদ্দিন।
শেষদিকে আবুল হাসান রাজু ৩৫ রানের ইনিংস খেললে তিনশ পেরোয় লাল দল। সানজামুল ইসলাম ও আবু হায়দার উভয়েই ৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
মোস্তাফিজ, তাসকিন ও সাইফদ্দিন নেন ২টি করে উইকেট। বল হাতে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন সবুজ দলের অধিনায়ক মাশরাফী, ৯ ওভারে ৮৭ রান দিয়েছেন এই পেসার, ছিলেন উইকেটশূন্য। সবুজ দলের হয়ে ১০ ওভারের কোটা শেষ করেছেন একমাত্র মোস্তাফিজ, দিয়েছেন ৪৭ রান।






