বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসী বরণ করেছে নতুন বছর। নতুন বছরের প্রথম প্রহর থেকে আতশবাজির ঝলকানি আর আনন্দ উচ্ছ্বাসে এখনও অনেকটা মেতে আছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। নতুন বছর বরণে বিশ্বজুড়ে ছিল বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা।
আন্তর্জাতিক সময়ানুযায়ী ২০১৮কে প্রথম স্বাগত জানায় প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ দেশ কিরিবাটি। এরপর, নিউজিল্যান্ড। অকল্যান্ডের স্কাই টাওয়ারে চলে আতশবাজি উৎসব।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার আর অপেরা হাউজে নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও লাখো মানুষ উল্লাসে মেতেছিল রঙিন আলোর ঝলকানিতে। নতুন বছর উপলক্ষে চীন-হংকং সংযোগ সেতু সেজেছিলো রঙিন আলোয়। রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে চলে বর্ষবরণ উৎসব।
জাকার্তা, সিঙ্গাপুর, হংকং, টোকিওসহ এশিয়ার দেশগুলোতে নানা আয়োজনে স্বাগত জানানো হয় নববর্ষকে । আরব আমিরাতের বুর্জ দুবাইয়ে আয়োজন হয় লেজার লাইট শো-য়ের। ২০১৮কে বরণ করতে নাচ-গান আর আতশবাজির পাশাপাশি বিখ্যাত ও দর্শনীয় স্থাপনাগুলোতে জড়ো হয়েছিল ভারতীয়রা।
এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো যুদ্ধ বিদ্ধস্ত ইরাকেও ছিলো নতুন বছর বরণে নানা আয়োজন। এছাড়া নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে উৎসব আয়োজন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান দেশগুলোতেও। মুগাবের শাসনামলের পর আলোকসজ্জা ও আতশবাজিতে ইংরেজি বছরকে বরণ করেছে জিম্বাবুয়ে।
ইংরেজি নববর্ষকে স্বাগত জানাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপিত হয়েছে। নতুন ইংরেজি বছর সবার জীবনে যেন মঙ্গল এবং শান্তি বয়ে আনে-সেই শুভ কামনায় ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে নগরের অভিজাত এলাকা প্রকম্পিত হতে থাকে পটকা আর আতশবাজিতে। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে উদযাপিত হয় থার্টি ফার্স্ট নাইট।
গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি, উত্তরাসহ অভিজাত এলাকায় কেউ বাসায় অথবা কেউ ক্লাবে হৈ-হুল্লোড় করে নতুন বছর উদযাপন করে। তবে রাস্তায় পুলিশ ও র্যাবের কড়া নিরাপত্তার কারণে অনেকেই বাসা থেকে বের হতে পারেনি।
রাত ৮টার পর থেকে বনানী, গুলশান, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অবশ্য গুলশান ক্লাব, ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাবসহ নগরীর ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে ঘরোয়াভাবে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপিত হয়।
রাত ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে ছাত্ররা বেরিয়ে আসে। অনেকেই টিএসসি’র সামনে অবস্থান নেয়। ছাত্ররা ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ জানিয়ে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়।
রাজধানীর ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে পৃথক ব্যবস্থা ছিল। হোটেলগুলোতে বিভিন্ন পার্টি উদযাপনে আগেই টিকিট বিক্রি করা হয়। হোটেল রূপসী বাংলা, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, ওয়েস্টিন, রেডিসন, ঢাকা রিজেন্সি, হোটেল স্যারিনাসহ বিভিন্ন অনুমোদিত বারগুলোতে রাতভর চলে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন।








