প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৫০ লাখ দুস্থ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে কম দামে চাল দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দেশে এমন একটা সময় আসবে যখন দুস্থ শব্দটাই আর থাকবে না। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে দশ টাকা দরে চাল বিক্রয় কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ৫০ লাখের বেশি মানুষ এই সুযোগ পাবে। ভাদ্র আশ্বিন মাসে দেখা যায় যে কারো কাজ থাকে না। সেসময় যেন এসব দরিদ্র মানুষগুলো না খেয়ে কষ্ট না পায় সেজন্যই এই পদক্ষেপ। চৈত্র বৈশাখ মাসেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
“জাতির জনক চাইতেন বাংলাদেশের একটা মানুষ যেন না খেয়ে থাকবে। এদেশে কেউ এখন আর খাদ্যের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরবে না। ছেলেমেয়েরাও লেখাপড়া শিখে বড় মানুষ হবে।”
কুড়িগ্রামে সরকারের নানান উন্নয়নের কথা টেনে তিনি বলেন, কুড়িগ্রামে প্রতিটি উপজেলায় এর আগে আমরা এসেছি। দেখেছি এখানকার মানুষের দু:খ-দুর্দশা। কিন্তু এখন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষ যেন আর না খেয়ে কষ্ট না পায় সেদিকে আমরা নজর রাখছি। প্রতিবন্ধী ও বয়োবৃদ্ধদেরও খাদ্য সাহায্য দিচ্ছি আমরা। বঙ্গবন্ধু পড়াশোনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
“বাঙালিকে একটি শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই আমরা। আমরা এখন বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি ছেলেমেয়েদের মধ্যে। গড়ে দিচ্ছি শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি করে দিচ্ছি। আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই। দেশে আর কোনো অশিক্ষিত মানুষ থাকবে না।”
জঙ্গিবাদ থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরো বেশি সচেতন হবার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি সন্ত্রাস ও মাদক দেশ ও জাতির জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। বিএনপি সবসময় এসবে উস্কানি দিয়েছে। ফলে কয়েকটি দুর্ঘটনা বারবার দেশে ঘটে যায়। আমরাই একমাত্র দেশ যেখানে ১০ ঘণ্টায় জিম্মি উদ্ধারকরে জঙ্গি দমন করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনী।
“জঙ্গিবাদের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করতে সমাজের সবাইকে যার যার সন্তানের দিকে নজরদারী বাড়াতে হবে, সন্তানেরসঙ্গে আরো যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত কেন সেসব শিক্ষকদের খবর নিতে হবে। সবাইনিজেদের আশেপাশের খোঁজ রাখেন। যুবসমাজ কেন বিপথে যাবে? কেন তারা মাদকাসক্ত হবে? ইসলাম কখনোই বলেনি মানুষ খুন করুন। এসব দিয়ে ইসলামকেই হেয় করাহয়। জঙ্গিবাদ দমনে আরো বেশি জনমত সৃষ্টি করুন ও আরো বেশি সচেতন থাকুন।”
কুড়িগ্রাম ছিলো মঙ্গাপীড়িত এলাকা, সেই দুর্নাম থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মঙ্গা থেকে আমরা তাদের রক্ষা করতে চেয়েছি। তারা যেন আর এই শব্দটা না শোনে। প্রত্যেক এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চাই আমরা। সেখানে উৎপাদন হবে, কর্মসংস্থান হবে। কুড়িগ্রামে ১৬টি নদী আছে। সেসব নাব্যতা বৃদ্ধি করতে নিয়মিত ড্রেজিং করাতে হবে। এই অঞ্চলে আর কখনো কেউ না খেয়ে কষ্ট পাবে না, সেই লক্ষ নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। স্থলসীমানার সমস্যারও আমরা সমাধান এনেছি।








