বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবিকে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষা ও উন্নয়নে আরও নিবেদিত হতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে জঙ্গিবাদ দমনে এগিয়ে আসতে হবে।
বিজিবি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে সীমান্ত ব্যাংক। বিজিবি সদস্যদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ডিপোজিট পেনশন স্কিম, গৃহনির্মাণ ঋণ, দূরারোগ্য রোগের জন্য চিকিৎসা সহায়তা থাকবে তাদের কার্যক্রমে।
এছাড়া সীমান্তে বসবাস করা জনসাধারণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিচালিত ‘আলোচিত সীমান্ত’ ও ‘সমৃদ্ধির পথে সীমান্ত’র মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও অর্থায়ন করবে সীমান্ত ব্যাংক।
পিলখানায় সীমান্ত ব্যাংকের উদ্বোধন করে ব্যাংকে প্রথম অ্যাকাউন্টটি খোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের যে স্থল সীমানা রয়েছে, ৪৭৯ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫৫টি বিওপি নির্মাণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আরও ২৫টি বিওপি নির্মাণ করে সীমান্ত সুরক্ষিত করা হবে। এবং বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের যে দুর্গম সীমান্ত রয়েছে তার সুরক্ষার জন্য সীমান্ত সড়ক নির্মাণের প্রকল্প গত ৭ জুলাই একনেকে অনুমোদন করা হয়েছে। অচিরেই এর কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও কিছু ভাসমান বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান।
৫ জানুয়ারির আগে-পরে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস রুখতে বিজিবি সদস্যরা যে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজিবির কঠোর অবস্থানের ফলে চোরাচালান, মাদক পাচার, নারী-শিশু পাচারসহ সীমান্ত অপরাধ অনেকটা কমে গেছে ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা (বিজিবি সদস্যবৃন্দ) শৃঙ্খলা আনুগত্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বিজিবি’র সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশ, জাতি ও জাতির স্বার্থরক্ষা ও উন্নয়নে আরও নিবেদিত হবেন।…
জঙ্গিবাদ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা কেউ যেন জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত না হয়, প্রতিটি অভিভাবকের কাছে আমার আহ্বান। সেই সাথে এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমনে সমগ্র দেশবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। কাজেই এ ধরণের যে কোনো তথ্য থাকলে তা আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পৌঁছে দেয়া, যেন আমরা বাংলাদেশকে জঙ্গি-সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পারি।
বিজিবির গোয়েন্দা সংস্থাকে আরো শক্তিশালী করে বর্ডার সিকিউরিটি ব্যুরো স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাহিনীর স্বনির্ভরতা অর্জনে যেকোন সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।








