দুই বিদেশী হত্যার সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশীদের হত্যা করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টকারীদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর এফবিসিসিআই মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যাম্পিয়ন্স অফ দ্য আর্থ’ পুরস্কার পাওয়ায় এফবিসিসিআই-এর দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে বসে বিএনপি নেত্রী দেশে বিদেশী হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সৃষ্টি করি, বিএনপি জামায়াত ধংস করে।
এ দেশের কোনো সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদের স্থান নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, হত্যা করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে এমনটা হতে দেওয়া যাবে না। একটা শান্তিপুর্ণ পরিবেশে যারা এমন ঘটনা ঘটাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং আরো আরো কঠোর অবস্থানে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করে বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরির সময় কৃষি জমি এবং ফসলি জমির ক্ষতি বা নদী নালার ক্ষতি না হয় সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন। কৃষি আমাদের মূল্যবান সম্পদ এ সম্পদ নষ্ট করা যাবে না একে রক্ষা করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যর ব্যবস্থা এ কৃষি থেকেই আসে।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশের কথা চিন্তা করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা করলে পরিবেশ রক্ষা পাবে। বেসরকারী খাতকে আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আর এ খাতের আরো উন্নয়ন করতে কি করতে হয় সে কাজ করে যাচ্ছি।
আগামীতে দেশের ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে তাছাড়া আমাদের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। আমরা প্রমাণ করেছি যে আওয়ামী লীগ ব্যবসা বান্ধব সরকার। তাই আপনারা ব্যবসা বাড়াবেন দেশের মানুষের কথা কর্মসংস্থান বাড়বে। আর দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।
এ সরকার গ্রামের উন্নয়নের দিকে বেশী জোর দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এখন গ্রামের উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি দিয়েছি। এখন গ্রামের মানুষের উন্নয়ন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই দরিদ্রের হার হ্রাস করতে পেরেছি। আশা করছি ২০২১ সালের আগেই আমরা দেশকে দারিদ্রমুক্ত করে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে দেখবো।
বাংলাদেশ নিম্ন থাকবে না উচ্চ থাকবে, আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণিত হবো বলেও বলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের মানুষের হাতে এখন থ্রি-জি মোবাইল এসে গেছে। দেশের পাঁচ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এটা সম্ভব হয়েছে টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচির মাধ্যমে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর ছোট ছোট দেশ। কিন্ত আমরা আমাদের এই দেশটাকে কিভাবে বাঁচাবো তা শিখে নিয়েছি। এখন বন্যা, ঝড়, ভূমিকম্প এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় জেনে গেছি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্মাননাপত্র তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।






