বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার এবং বিশেষ করে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা অনেক পুরনো। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। শনিবার গণভবনে হাঙ্গেরি সফর-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইন্ডিয়া বাংলাদেশের চ্যানেল নেয় না। আমি যদি এই প্রশ্ন করি, আমরা কেনো হুমড়ি খেয়ে পড়ি?’ এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ভারতীয় অনেক চ্যানেলই বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয়। নানা ধরনের অনুষ্ঠান, রিয়েলিটি শো এবং সিরিয়াল দিয়ে তারা এ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর সঙ্গে বিজ্ঞাপনের জন্য কম বিরতিও একটি কারণ। এভাবে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয় হওয়া দেশের টেলিভিশনগুলোর জন্য খুব খারাপ সংবাদ। সবচেয়ে খারাপ সংবাদ হচ্ছে: দেশি অনেক বিজ্ঞাপন ওইসব চ্যানেলে চলে যাচ্ছিল। এতে রাজস্ব হারিয়ে দেশি চ্যানেলগুলো মুনাফা হারাচ্ছিল, নতুন অনেক চ্যানেল নিজের পায়ের উপর ভর করে দাঁড়াতেই পারছিল না। তাই তাদের দাবি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদেশী ডাউনলিংক চ্যানেলগুলোতে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য এটি অবশ্যই একটি সুসংবাদ। এজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তবে, একইসঙ্গে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকেও আত্মসমালোচনা এবং আত্মউপলব্ধিতে আসতে হবে যে দেশি বিজ্ঞাপন কেন বিদেশি চ্যানেলে চলে যাচ্ছিল। এর মূল কারণ বাংলাদেশে ওই চ্যানেলগুলোর বিশাল দর্শক। যেখানে দর্শক বেশি উদ্যোক্তারা সেখানেই পণ্যের বিজ্ঞাপন দেবে এটাই স্বাভাবিক। এ কারণে পশ্চিমা অনেক টেলিভিশন চ্যানেলে আমরা ভারতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। এখন এক ধরনের সুরক্ষায় আমাদের স্থানীয় টেলিভিশনগুলো সুবিধা পাবে। কিন্তু, তারা নিজেদের অনুষ্ঠানের মান যদি বাড়াতে না পারে তাহলে রাজস্ব কী পরিমাণ আসবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাই বাংলাদেশের মানুষকে যেমন নিজ দেশের চ্যানেলের বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে তেমনি তারা যেন ভারতীয় বাংলা কিংবা হিন্দি চ্যানেলগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোর বিষয়ে বেশি আগ্রহী হয় সেজন্য মানসম্পন্ন অনুষ্ঠানও নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখা উচিত যে এটা বিশ্বায়নের যুগ। উদাহরণের খাতিরে যদি বলি: চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশে বিদেশী চ্যানেলগুলো যদি বন্ধও হয়ে যায় আর মানুষ তাদের অনুষ্ঠানকে অধিকতর ভাল মনে করে তাহলে সেগুলো তারা ইউটিউবে বা অন্য কোন মাধ্যমে ঠিকই দেখবেন। বহুজাতিক কিংবা দেশি কোম্পানিগুলো কিন্তু তখন ইউটিউবের বিজ্ঞাপনের জন্য তাদের বাজেট বরাদ্দ বাড়াবে। সবকিছুর আগে তাই নিজেদের মান উন্নয়নকে এক নম্বর এজেন্ডা করা উচিত।









