ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী বদলেছে অসংখ্যবার। দেশসেরা ওপেনারের তকমা নিয়ে অন্যপাশটা আগলে রেখেছেন দীর্ঘ ১৬ বছর। দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটার নেতৃত্বের মুকুট মাথায় থাকা অবস্থায় অভিমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বলে দিলেন ‘গুড বাই’। ওয়ানডে বিশ্বকাপের ৩ মাস আগে অবসরে গেলেন অধিনায়ক।
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর ঝরে পড়লেন তামিমও। পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে টিকে রইলেন কেবল সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।
মাশরাফী শুধু নেতৃত্ব ছেড়েছিলেন। তার জায়গায় দায়িত্ব পাওয়া তামিম ছেড়ে দিলেন খেলাটাও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গন ছাড়ার ঘোষণা দিতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল তামিমের। চোখের পানি লুকাতে পারেননি।
নিজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগের সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানিয়েছিলেন পুরোপুরি ফিট না হলেও তিনি খেলবেন। এই বিষয়ে বিসিবির অন্দরমহলে অনেক জলই গড়িয়েছে। যার ছিটেফোঁটা হয়ত দেখা গেছে তামিমের চোখেও।
আবেগী তামিম অবসরের কথা জানানোর সময় কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলেননি, ‘ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ পথচলায় আমার সব সতীর্থ, সব কোচ, বিসিবির কর্মকর্তাগণ, আমার পরিবার ও যাঁরা আমার পাশে ছিলেন, নানাভাবে সহায়তা করেছেন, ভরসা রেখেছেন এবং আমার ভক্ত-সমর্থক, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনুসারী, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সবার অবদান ও ভালোবাসায় আমি চেষ্টা করেছি সব সময় দেশের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে।’
একটা সময় ছিল যখন ওপেনিংয়ে ভরসার কোনো নাম ছিল না। তামিমই দেখিয়েছিলেন আশার সূর্য। ক্যারিয়ারের শুরুতেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বোলারদের মাঝে ভয় ধরানোর কাজটা করতেন সাবলীলভাবে। ওয়ানডেতে ৮ হাজার, টেস্টে ৫ হাজার ছোঁয়া ব্যাটার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাংলাদেশকে দিয়েছেন দারুণ দারুণ উপলক্ষ। যোগ্য সঙ্গী হিসেবে লিটন দাস নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও তামিমের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। নিজের জায়গা ঠিক থাকার পরও অবসরের ভাবনাটি হয়ত বোর্ডের প্রতি চরম অভিমানেরই প্রতিফলন।









