প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতার মানে শুধু অর্থনৈতিক মুক্তি নয়। স্বাধীনতা মানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা।
‘সাহিত্য চর্চা, সঙ্গীত ও বইপড়ার সঙ্গে আমরা পরিবার থেকেই সবসময় জড়িত ছিলাম। সম্পূর্ণভাবে দেশকে স্বাধীন করতে হলে সাংস্কৃতিক মুক্তি দরকার, দরকার সাংস্কৃতিক চর্চা।’
বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুরের ধারার রজত জয়ন্তী ও সুরের ধারা-চ্যানেল আইয়ের বর্ষবিদায়-বর্ষবরণের ৪ দিনের আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চায় অনেক বৈরি পরিবেশ আমাদের পেতে হয়েছে। এসময় আমাদের মনে হয় বঙ্গবন্ধুর অমোঘ বাণী, দাবায়ে রাখত পারবে না। মাঝে মাঝে কালো মেঘ আমাদের ছুঁয়ে যায় কিন্তু তার পাশে সূর্য হাসে। স্বাধীনতাবিরোধীদের জন্য সাংস্কৃতিক চর্চায় বাধার সৃষ্টি হয়।
সুরের ধারার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, সমাজের অবহেলিত শিশুদের গান শেখানো ও সুরের ধারার সঙ্গে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ওসব শিশুরা অনেক মানবেতর জীবন যাপন করে। তাদের সামনে নিয়ে আসা ও তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার চেষ্টা করা একটা মহান কাজ।
‘তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সাংস্কৃতিক বিকাশ হতে পারে না। সেসব মাথায় রেখেই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেশের গ্রামেও কত সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করে মূলধারায় আনা খুবই দরকার। সেটা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা করতে চাই, আমি বলতে চাই সেই কাজে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।’
অতীতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মোনায়েম খানের সময় ঘোষণা পেলাম, রবীন্দ্রনাথ পড়া যাবে না, রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া যাবে না, রবীন্দ্র চর্চা করা যাবে না। বাংলা বিভাগের আব্দুল হাইকে ডেকে একথা বলা হলো। এই বক্তব্যে প্রেক্ষিতে তখন শিক্ষকরা নানান প্রতিবাদ শুরু করলেন। মোনোয়েম খান আব্দুল হাইকে ডেকে বললেন, “কি করেন আপনারা, সারাদিন রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ করেন। নিজেরা দুয়েকটা রবীন্দ্রসঙ্গীত লিখে ফেলতে পারেন না।” জবাবে আব্দুল হাই বললেন, তাহলে সেটা রবীন্দ্রসঙ্গীত হবে না, হাই সঙ্গীত হবে।
আয়োজন শেষে প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। পরে তিনি সুরের ধারার গীতবিতান ও আনন্দআলোর একটি সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন।








