রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া এসিডে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছে। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দগ্ধদের একজন মাহফুজা আক্তার সুবর্ণা অভিযোগ করেছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তার স্বামী দুর্বৃত্তদের দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ তার স্বামী সুরুজকে আটক করেছে।
বিয়ের পর থেকেই স্বামী সুরুজ আলম খানের নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন বলে দাবি করেন সুরুজের তৃতীয় স্ত্রী সুবর্ণা।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরের বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন সুবর্ণা এবং তাদের মেয়ে। ভোরে সুরুজ বাসা থেকে বের হয়ে আরো দুজনকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসেন। সুবর্ণা দরজা খুলে দিলে স্বামীর উপস্থিতিতেই মুখোশধারী একজন তার দিকে এসিড ছুঁড়ে মারে।
সুবর্ণা বলেন, দরজায় টোকা মেরে বলে, সুবর্ণা তোমার দেশ থেকে লোক আসছে। উনি পাশে দাঁড়ানো ছিলো। দুইটা লোক ছিলো একটা কালো লম্বা, মুখ খোলা, সেই ঘরের ভেতরে ঢুকছে। একজন মুখোশ পরা ছিলো, সে আর আমার স্বামী পাশাপাশি দাঁড়ানো ছিলো।
ডাক্তাররা বলেন, এসিড পানির মতো করে ছিটিয়ে দিয়েছে তাই সারা শরীরের ছিঁটেফোটা করে আক্রান্ত হয়েছে। পুরো শরীরে মোট ১১ শতাংশ পুড়ে গেছে। মুখ সবচেয়ে বেশি পুড়ে গেছে।
তাকে বাঁচাতে গিয়ে সুরুজ খানের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সুবর্ণার মেয়েও এসিডের শিকার হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
এসিড লাগে সুরুজের গায়েও। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সুরুজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্বামীর হাতও খানিকটা আক্রান্ত হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছি।
পুলিশ বলে, মেয়ে আক্রান্ত হয়েছে, তৃতীয় স্ত্রী সুবর্ণা আক্রান্ত হয়েছে আর দ্বিতীয় স্ত্রীও খানিকটা আক্রান্ত হয়েছে।
দোষীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত করছে রূপনগর থানা পুলিশ।









