একজন সৎ ব্যক্তি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির শিকার হতে পারেন এই বার্তা দিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘দুর্নীতি একটি মানসিক রোগ, যা শুধুমাত্র শারীরিক শাস্তি দিয়ে নিরাময় করতে পারা যায় না।’
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারদণ্ড বহালের রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিতে দুর্ভাগ্যবশত দুদক এখনও মিডিয়া কাভারেজের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে হাইকোর্ট রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, আমরা এমন একটি কমিশন দেখতে চাই যে, সাংবিধানিক পদে থাকা এবং প্রজাতন্ত্রের অন্য সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে থাকা দুর্নীতির মূল খুঁজে বের করতে কার্যকর এবং সক্রিয় হবে। আমরা মনে করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা আমাদের কর্তব্য।
অন্যদিকে হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহালের রায় প্রকাশের পর দুদকের আইনজীবী আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রায়ের ফলে গত ৯ মার্চ থেকে ধরে নিতে হবে হাজী সেলিম আইনগতভাবে আর সংসদ সদস্য নেই। আর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রক্রিয়া হচ্ছে তাকে ৩০ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে। জেল থেকে ওকালতনামা দিয়ে এই রায়ের জাবেদা-নকল নিয়ে ওনি রেগুলার লিভ-টু-আপিল করতে পারবেন এবং জামিন চাইতে পারবেন।’
তবে হাজী সেলিমের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা রায়ের পর বলেন ‘হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী ১ মাসের মধ্যেই বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ-টু-আপিল করা হবে।’
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেয়া ১০ বছরের কারদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার রায় বহাল রেখে গত বছরের ৯ মার্চ রায় দেন বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায়ে জরিমানার টাকা অনাদায়ে হাজী মো. সেলিমকে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর এই রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। আত্মসমর্পণ না করলে জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এছাড়া এই মামলায় হাজী সেলিমের জব্দ কৃত সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে বলা হয় রায়ে। তবে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে এই মামলায় বিচারিক আদালতের ৩ বছরের কারাদণ্ড থেকে হাজী সেলিমকে খালাস দেন হাইকোর্ট।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এই মামলায় বিচারিক আদালত তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিল। পরে হাইকোর্ট সে সাজা থেকে তাকে খালাস দেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে হাইকোর্টে এই মামলাটি আবার শুনানি হয়।
জরুরি অবস্থার সময় ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল বিচারিক আদালতের রায়ে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
পরে ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর হাজী সেলিম এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট ১৩ বছরের সাজা বাতিল করে রায় দেয়। হাইকোর্টের কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে দুদক। সে আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে যায়। সেই সঙ্গে হাজী সেলিমের আপিল পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৯ মার্চ রায় দেন হাইকোর্ট। সে রায় প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার তা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়।








