দুর্নীতির কারণেই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। সোমবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সনাক-স্বজন, ইয়েস-ইয়েস ফ্রেন্ডস, ওয়াইপ্যাক জাতীয় সম্মেলনে’ অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেছেন। কয়েকদিন আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি সূচকে দেশের দুর্নীতি পরিস্থিতি কিছুটা অগ্রগতিতে আশার আলো দেখা গেলেও দুদক চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য হতাশাজনক। দুদক কিছু দৃশ্যমান কাজ করলেও দুদকের অগ্রগতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয় না বলেও জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সুশাসন বলতে সাধারণত কিছু নিয়মনীতিকে বুঝায় যেগুলো সরকারী সংগঠনসমূহের আচার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, নাগরিকদেরকে উদীপ্ত করে, সরকারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং সরকারী-বেসরকারী সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। সুশাসনের প্রধান কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলো দূর্নীতি কমাতে নিশ্চয়তা প্রদান করে। সমাজের বর্তমান এবং ভবিষ্যত চাহিদা পূরণের দায়বদ্ধতা সুশাসনের। দুদক চেয়ারম্যানের দেয়া বক্তব্য অনুসারে এই সুশাসনের অভাব দেশের জনগণের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে ও সার্বিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে, তাতে সন্দেহ নেই। সুশাসন একটি আধুনিক ধারণা বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। সুশাসনের অন্যতম শর্ত-শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা। দুর্নীতির কারণে এইসব প্রক্রিয়ায় অসম ব্যবস্থা দেখা দিলে তা সুশাসন প্রক্রিয়াকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দিতে পারে। ইতিহাস বলে, সুশাসনের অভাব দেখা দিলে ধীরে ধীরে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, যার সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী নানা চক্র রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে চেষ্টা করে। আমরা মনে করি এসব বিষয়ে দেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্ষমতাসীন সরকার অবশ্যই সচেতন আছেন। দুদক চেয়ারম্যানের কথার সূত্র ধরে সুশাসন ও উন্নয়ন যাত্রায় দুর্নীতিসহ নানা প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, এই আমাদের প্রত্যাশা।








