দুর্গা শক্তির দেবী। বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে দুর্গাপূজা। এই পূজার মধ্য দিয়ে হিন্দুসম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ মনেপ্রাণে শুভের উন্মেষ ও অশুভের নাশ প্রার্থনা করেন।
সাধারণত আশ্বিন শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশম দিন অর্থাৎ দশমী অবধি পাঁচ দিন দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। আবার সমগ্র পক্ষটিকে দেবীপক্ষ বলা হয়। দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন; এই দিনটি মহালয়া নামে পরিচিত। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিন অর্থাৎ পূর্ণিমায়; এই দিনটি কোজাগরী পূর্ণিমা নামে পরিচিত ও বাৎসরিক লক্ষ্মীপূজার দিন হিসাবে গণ্য হয়। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার সমাপ্তি।
পুরাণে দেবী দুর্গা হচ্ছেন মহাতেজা, যুদ্ধরতা, অসুরবিনাশিনী, যার হুঙ্কারে পৃথিবী প্রকম্পিত। অথচ দেবীর এই রূপটির সঙ্গে মনু সংহিতার আদর্শ ভারতীয় নারীর কোমল রূপটির কোনো মিল নেই কেন? দেবীর সৃষ্টি হয়েছিল এক পরমা আদিশক্তি হিসেবে, অন্যান্য দেবীদের মতো কোনো দেবতার স্ত্রী বা divine consort হিসেবে নয় কেন? যুদ্ধই যদি, তবে এমন সাজসজ্জাই বা কেন? নারীবাদীরা দেবী দুর্গাকে নিয়ে এমন নানা প্রশ্ন করছেন। দুর্গা দেবীকে ঘিরে নারীবাদীদের এসব প্রশ্ন বা মত-মন্তব্য উপেক্ষণীয় নয় মোটেই।
নারীবাদীরা বলেন, পুরুষরা সমস্ত ক্ষমতাযন্ত্র নিজেদের হাতে রেখে একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। অর্থনীতি, রাজনীতি, রাষ্ট্র সবকিছু পুরুষের অধীনস্থ। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সব থেকে বড় আবিষ্কার হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা (concept of God)। পুরুষের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে ঈশ্বরকে। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গ্রীক কবি জেনোফিনিস বলেছিলেন, ‘ষাঁড়ের যদি মানুষের মতো হাত ও ক্ষমতা থাকত তাহলে তারা দেবদেবীর আকার, রূপ, চরিত্র ষাঁড়ের মতো করেই তৈরি করতো। পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মে লক্ষ-কোটি ‘ঈশ্বরের প্রেরিত পুরুষ’ বা অবতার এসেছেন যাঁদের মধ্যে কেউ-ই নারী নন। নারীদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের ফতোয়া দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, থামিয়ে রাখা হয়েছে তাদের মানসিক উন্নয়নকে।
মোট কথা, পুরুষরা সব কালেই নারীর ছবি এঁকেছেন নিজেদের কল্পনা মিশিয়ে। অনেক ক্ষেত্রেই স্বার্থ-সুবিধা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিমূর্তি হিসেবে। এমনকি যে দেবী দুর্গাকে ‘নারীত্বের প্রতিমূর্তি’ মনে করা হয়, তা-ই বা কতটুকু নারীর প্রতিনিধিত্ব করে? হালের নারীবাদীরা তো সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, পৌরাণিক দুর্গা কি আদৌ নারী? নাকি যুদ্ধরত দুই গোষ্ঠীর পুরুষের মধ্যে একজনের তরফে বানানো একটি স্ট্র্যাটেজি? এক নারীরূপী যুদ্ধযন্ত্র?
বারবার দেবতারা অসুরদের জন্য বাছাই করা দেবীদের পাঠাচ্ছেন। শুধু দেবতাদের তাড়িয়ে দিয়ে স্বর্গ-দখল-করা মহিষাসুরকে বধ করতে দুর্গাকে পাঠানো নয়। এছাড়াও আছে সুন্দর-উপসুন্দরের জন্য তিলোত্তমা নির্মাণ, ধূম্রলোচনের জন্য কৌশিকী, চণ্ড-মুণ্ড-রক্তবীজদের জন্য চামুণ্ডা, শুম্ভ-নিশুম্ভের জন্য চণ্ডিকা। এ সবই করছেন এবং পাঠাচ্ছেন কিন্তু পুরুষরাই। রাজ্যপাট সামলাতে অক্ষম দেবতারা আর যজ্ঞস্থল আগলাতে হিমশিম ঋষিরা। এ কি দেবপত্নীদের জন্য অসুরদের দুর্বলতা জানার জন্য? না কি মিছিলে লাঠি-গুলি চলার সম্ভাবনা থাকলে মেয়েদের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করার রণকৌশল?
শ্রীশ্রীচণ্ডীর দুর্গার বর্ণনা বলছে, বিষ্ণু-ব্রহ্মা-শিব-ইন্দ্র প্রমুখ দেবতার মুখ বা শরীর নিঃসৃত মহাতেজরাশি এক অনুপম নারীর মূর্তি নিচ্ছে। কিন্তু এই নারীর শরীরের অনুপুঙ্খ সমস্ত অঙ্গই কোনো না কোনো পুরুষের অবদান। এমন কী তাঁর স্তনও চন্দ্রতেজে নির্মিত। যোনির কোনো উল্লেখ দেখা যায় না। শুধু সন্ধ্যাদেবীদের তেজে তাঁর ভ্রূযুগল এসেছে।
দুর্গার অস্ত্র-শস্ত্র-বাহন সব কিছুই দিয়েছেন পুরুষ দেবতারাই। শূল, চক্র, বজ্র, শঙ্খ, ধনু-তূণীর, দণ্ড, পাশ, খড়্গ, কুঠার, ঢাল থেকে সিংহ। এমন কী মালা-কমণ্ডলুও। অঙ্গের সমস্ত বসন-আভূষণ দিয়েছেন তাঁরাই। এ তো যন্ত্রকেই সাজানো। আচরণেও কোথায় নারীত্ব? বা এমন কী দেবত্ব? সমস্ত সাজ-গোজ হয়ে যাবার পর দেবীর অট্টহাস্যে আর হুঙ্কারে, ‘অতি মহান ঘোর গর্জনে’ কেঁপে উঠছে চতুর্দশ ভুবন, সাত সমুদ্র, পৃথিবী আর পাহাড়েরা। শ্লোকে লিঙ্গ পরিবর্তন করে দিলেই তো তা মহিষাসুরের বর্ণনাও হতে পারত!
আর দেবীকে কুবের দিয়েছিলেন ‘সদা সুরাপূর্ণ এক পানপাত্র’। সেটির সদ্ব্যবহারও হচ্ছে। মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধের প্রায় শেষ দিকে ‘অসুর কর্তৃক নিক্ষিপ্ত পর্বতসকল শরদ্বারা চূর্ণ করিতে করিতে মদ্যপানে অতিশয় রক্তবদনা চণ্ডিকাদেবী বিজড়িত স্বরে মহিষাসুরকে বলিলেন, রে মূঢ়! যতক্ষণ আমি মধুপান করি, ততক্ষণ তুই গর্জন কর’। লিঙ্গ সাম্যের এ রকম উদাহরণ সত্যিই বিরল।
সেই সময় দেবতারা আর ঋষিরা কী করছেন? গ্যালারিতে বসে নিরাপদ দূরত্ব থেকে খেলা দেখার মতো চারদিক থেকে দেবীর স্তব করে যাচ্ছেন। আর মেলে ধরছেন এক অন্তহীন ‘দাও-দাও’-এর তালিকা। রাজ্যপাট দাও, শাসনক্ষমতা দাও, ব্রহ্মবিদ্যা দাও, যশ দাও, শ্রী দাও, রূপ দাও, আমার মনোবৃত্তির অনুসারিণী মনোরমা বউ দাও, এমনকী আমার শত্রুদেরও মেরে দাও যাতে আমাকে কোনো খাটুনিই না করতে হয়!
পরবর্তী শ্লোকসমূহে দেবীকেই আবার চূড়ান্ত শক্তির অধিশ্বরী, ব্রহ্মা-রুদ্র-বিষ্ণু, এমন কী তাঁদের স্ত্রী, যথাক্রমে সরস্বতী, গৌরী আর শ্রীর স্রষ্টা বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে তিনি একাধারে ‘কালরাত্রি (যাহাতে ব্রহ্মার লয় হয়), মহারাত্রি (যাহাতে জগতের লয় হয়), মোহরাত্রি (যাহাতে জীবের নিত্য লয় হয়)’। তখন দেবীর প্রতি, নারীর প্রতি পুরাণকারদের মনে কতটা সদর্থক ভাবনা ছিল, আদৌ ছিল কি না, সে সমস্ত প্রশ্ন তো থেকেই যায়।
আর এই পৌরাণিক দেবীই আহূত হন মহালয়ায়, পূজিত হন সর্বজনীন পূজার মণ্ডপে। সে তো পুরুষের পূজা। ক্ষমতার জন্য পূজা। মেয়েদের পূজা তো এত সাড়ম্বরে, পূজক আর পূজিতের মধ্যে এত দূরত্ব দিয়ে সূচিত নয়। তার মধ্যে নেই রাজ্যপাটের দাবি। শাসনক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা। পূজক আর পূজিতের মধ্যে সে এক অন্তর্লীন, অন্তরঙ্গ যাত্রা। তাই দুর্গাপূজার সর্বজনীনতা আসলে এক নারীকে কেন্দ্র করে পুরুষদের সর্বজনীন ভ্রাতৃত্বের আর এক প্রকাশ, নারীর নিজের উপস্থিতি সেখানে প্রতীকীমাত্র।
আচার-অনুষ্ঠানের দিকে তাকালেও পুরুষাধিপত্যই দেখা যায়। দেবী দুর্গা নারী। কিন্তু সেখানে নেতা (পুরোহিত) হলেন পুরুষ। নারীর ভূমিকা এখানে শুধু যোগালদারের, ভৃত্যের! মেয়েদের পূজো হলো ব্রত। ঘরের কোণে, সবার চোখের আড়ালে অনাড়ম্বর আয়োজন। সংসারের সব কাজ গুছিয়ে পূজোর জোগাড়। সহায়ক আরও নারী। শামিল শিশুরাও। সন্তানের মঙ্গল কামনায় আর পুত্র সন্তানের জন্য বারো মাসে তেরো ষষ্ঠী। এই জন্মে বা পরজন্মে ভালো বরের জন্য পুণ্যিপুকুর, সেঁজুতি, দশ-পুতুল, তুঁষ-তুষুলী, শিবরাত্রি। অক্ষয়-সিঁদুর আর এয়ো-সংক্রান্তি, সৌভাগ্য-চতুর্থী — চিরায়ুষ্মতী হতে। সংসারের মঙ্গল আর সাচ্ছল্যের জন্য মঙ্গলচণ্ডী, বিপত্তারিণী, জয় মঙ্গলবার, লক্ষ্মীপুজো আর অধুনা সন্তোষী-মা। ফসলের প্রাচুর্যের জন্য পৌষলক্ষ্মী আর ইতু।
সধবা, বিধবা বা কুমারী— চাওয়ার পরিধিটা প্রায়শই এক। সাবিত্রী-সমান হব। স্বামী-আদরিণী হব। রামের মতো পতি, দশরথের মতো শ্বশুর, কৌশল্যার মতো শাশুড়ি আর লক্ষ্মণের মতো দেবর পাব। দ্রৌপদীর মতো রাঁধুনি হব। পৃথিবীর মতো ভার সইব। রাজ্যেশ্বর ভাই পাব। দরবার-জোড়া ব্যাটা পাব। সভা-উজ্জ্বল জামাই পাব। হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া আর বাড়িভরা দাস-দাসী — কিন্তু সে সবই শ্বশুর, বাবা, ভাই বা স্বামীর জন্য। নিজের জন্য চাহিদা খুবই সামান্য।
নিজেদের জন্য মেয়েরা চায় সাত ভায়ের এক বোন হতে। চায় শাঁখার আগে সুবর্ণের খাড়ু। চায় রাজার ঝি বা রাণী হতে। বছর-অন্তর একবার বাপের বাড়ি আসতে। আর সবচেয়ে বেশি করে চায় পতির উপর নিঃশর্ত অধিকার। বহু ব্রতর কামনা সতীনের বিনাশ— সতীন কেটে আলতা পরি, সতীনের শ্রাদ্ধের কুটনো কুটি, সতীন মরে বসে দেখি। কেউ এর মধ্যে ‘মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু’ গল্পেরই মশলা পাবেন। কিন্তু এ তো আসলে মধ্যযুগের ভয়াবহ কৌলিন্য প্রথার শিকার মেয়েদের তীব্র আতঙ্কেরই প্রকাশ। মেয়েদের সব চাওয়া-পাওয়া কোনো না কোনো পুরুষের জন্য চাওয়া। অর্থাৎ তার লক্ষ্য একটাই— সবাই মিলেই একটু ভালো থাকা।
ভাস্কর শিল্পী মারলিন স্টোন তার বই When God was a Woman বইতে বলেছেন, এক সময় নারীই যে ঈশ্বর ছিলেন, খ্রিষ্টপূর্ব ২৫ হাজার বছর আগের নারী মূর্তিগুলো তারই নিদর্শন। এছাড়াও, ঐ বই থেকে জানা যায়, ঈশ্বরের লিঙ্গ পরিবর্তন হয়েছে ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে। এই ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভব হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের, বৃহদার্থে নতুন একটি সভ্যতার। পুরুষকেন্দ্রিক এই সভ্যতা অনেকাংশে হয়ে উঠল যুদ্ধ ও ধর্মকেন্দ্রিক সভ্যতা। ভোগের সভ্যতা বললেও ভুল হবে না। নারী উঠে গেল ভোগ্যপণ্যের তালিকার শীর্ষস্থানে।
সভ্যতার যাতে আর পালাবদল না ঘটে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়ে উঠল পুরুষশাসিত সমাজ। এক্ষেত্রে ধর্ম বিশ্বাসটাকে আগে নিজেদের মধ্যে ভালো করে রপ্ত করে তারপর ঘুমের ঔষধের মতো করে নারীদের খাইয়ে দেয়া হলো। বিষয়টিকে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন শরৎচন্দ্র – ‘পুরুষেরা যাহা ইচ্ছা করে, যাহা ধর্ম বলিয়া প্রচার করে, নারী তাহাই বিশ্বাস করে এবং পুরুষের ইচ্ছাকে নিজেদের ইচ্ছা বলিয়া ভুল করে এবং ভুল করিয়া সুখী হয়।’
দুর্গাই বলি, অন্য দেবীদের কথাই বলি, সব দেবী উপাসনার পেছনেই ছিল পুরুষের ছল। পূজা করে নারীদের ভোলানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কখনো বা দেবী বানিয়ে দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে। ভারতবর্ষ তো দীর্ঘকাল ধরে দেবী পূজার উর্বর ভূমি। বিভিন্ন দেবীর পূজা করেছে যে পুরুষেরা তারা কিন্তু নারীর সম্পত্তির অধিকারটুকু দেয়নি। কালী, সরস্বতী, লক্ষ্মীর পূজা সেরে পাড়ায় বা বাড়িতে ফিরে নারী দেবতার ঐ পুরুষ পূজারীরা কি অসহায় বিধবাকে জোর করে মৃত স্বামীর চিতার আগুনে পুড়িয়ে মারত না? এখন যেমন চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন!
পুরুষতান্ত্রিক ধর্ম ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ছিলেন দ্রোহী নারী। তাই সনাতন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে মুক্তকণ্ঠে তিনি বলতে পারেন এই কথা-‘আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্য পুরুষগণ ওই ধর্মগ্রন্থগুলোকে ঈশ্বরের আদেশপত্র বলিয়া প্রকাশ করিয়াছেন। ধর্ম শেষে আমাদের দাসত্বের বন্ধন দৃঢ় হইতে দৃঢ়তর করিয়াছে; ধর্মের দোহাই দিয়া পুরুষ এখন রমণীর উপর প্রভুত্ব করিতেছেন।’
পদ্মরাগ উপন্যাসে পণপথার বিরুদ্ধে রোকেয়া উচ্চারণ করেছেন এই তীব্র ক্ষোভ – ‘বিবাহ যেন সম্পত্তি ও অলংকারের জন্য না হয়। কন্যা পণ্যদ্রব্য নহে যে তাহার সঙ্গে মোটরগাড়ি ও তেতলা বাড়ি ফাউ দিতে হইবে।’ তবে কেবল পুরুষতন্ত্রই নয়, তিনি আক্রমণ করেছেন পুরুষতন্ত্রে মুগ্ধ ও বশীভূত নারীসমাজকেও। তার মতে নারীর চেতনাতেও বাসা বেঁধেছে পুরুষতন্ত্রের ভূত। এই ভূত তাড়ানোর জন্য তীব্র ভাষায় তিনি আক্রমণ করেন নারীর সনাতন মানসিকতাকে – ‘আমরা দুর্বলভূজা, মূর্খ, হীনবুদ্ধি নারী। সে দোষ কাহার? আমাদের। আমরা বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলন করি না বলিয়া তাহা হীনতেজ হইয়াছে।’
রোকেয়া কথিত এই ‘হীনতেজ’ নারীদের নিয়েই পুরুষতন্ত্র রচনা করেছে নানা প্রশংসাগাঁথা। নারীকে তারা দেবীত্বের আসনে বসিয়ে মূলত বন্দি করে রাখতে চেয়েছে গৃহকোণে!
তাই বলে কি দেবী-পূজা করব না? করব, অবশ্যই করব, কিন্তু তা যেন হয় আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার উপাসনা।
অসুর নাশিনী মা দুর্গা হচ্ছেন শুভশক্তির আধার। আর কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য-এই ষড়রিপুর সম্মিলন হচ্ছে অসুর। দেবী দুর্গা অসুর বিনাশের মাধ্যমে সমাজে শান্তি-স্থিতি প্রতিষ্ঠা করেন।আসুন, আমরা ধর্মাধর্ম নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অসুর বিনাশে সংকল্পবদ্ধ হই।
ঔঁম শান্তি। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক। সবার জন্য শান্তি বর্ষিত হোক।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








