দাবি না মানলে লাগাতর আন্দোলনের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ছাত্রদলের আন্দোলনরত বয়স্ক নেতারা। ছাত্রদলের দুইপক্ষের মধ্যে টানাহেঁচড়া ও উত্তেজনা তৈরি হয় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে।
সোমবার নয়াপল্টনে নিজেদের অবস্থান কর্মসূচির পর বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের পক্ষে এই দাবির কথা জানান ওমর ফারুক মুন্না।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, বয়স সীমা বাদ দিয়ে ধারাবাহিক কমিটি গঠন, ৩৫ বছর বয়স বাতিল অথবা ৩০ এ নিয়ে আসা, আর ঘোষিত তফসিল বাতিল করে পুন:তফসিল ঘোষণা করা।
এসব দাবির পক্ষে মুন্না বলেন, দলের হাইকমান্ডের প্রতি আহ্বান থাকবে আমাদের দাবি মেনে নিয়ে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হোক। তা না হলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারসহ বয়সসীমা তুলে দিয়ে নিয়মিত কমিটির দাবিতে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সহস্রাধিক নেতাকর্মীর একটি মিছিল নয়াপল্টনে এসে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুপুর পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন।
এসময় তারা কার্যালয়ের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিহত করতে কার্যালয়ের ভেতরে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহানগর বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী অবস্থান নেন। কার্যালয়ের আশপাশেও অবস্থান নেন ছাত্রদল ও বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ের গেট আটকানোর সময় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ভেতরে অবস্থানরত ও বাইরের আন্দোলনকারী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে টানাহেঁচড়ার ঘটনাও ঘটে।
পরে দুপুরে পুনঃতফসিল দাবি করে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদল নেতারা।এসময় আগামীকাল মঙ্গলবার আবারও নয়াপল্টনে কর্মসূচি পালন করার কথা জানানো হয় বিক্ষোভ থেকে।
বয়স্ক নেতাদের দাবি ও আন্দোলনকে অযৌক্তিক দাবি করে ছাত্রদলের এক নেতা জানান, এধরনের আন্দোলন হতে পারে। তারা দাবি করতে পারেন। কিন্তু আমি মনে করি এসব অযৌক্তিক। তারাও যেহেতু দলের জন্য একসময় ত্যাগ করেছেন তার বিনিময়ে তারা অন্য অঙ্গ সংগঠনে নেতৃত্ব নিতে পারেন। কিন্তু ছাত্রদলকে নিয়মিত ছাত্রদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার জন্য আমাদের দলীয় হাইকমান্ড যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা যথাযথ বলে মনে করি।
বয়স্ক নেতাদের দাবি মানা হবে কিনা এমন প্রশ্নে বিএনপির এক নেতা জানান, তাদের দাবিগুলো যথাযথ নয়। ছাত্রদলকে ছাত্রদের হাতে নিয়ে আসতে উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এখানে তাদের সহযোগতিা করা দরকার।
কিন্তু তারাও দীর্ঘদিন ত্যাগ করেছেন দলের জন্য-এমনটাই দাবি তাদের এই প্রশ্নে তিনি বলেন, তাদের ত্যাগের কথা আমরা অস্বীকার করছি না। কিন্তু তরা আমাদের অঙ্গ সংগঠনে নেতৃত্ব দিবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল নেতা জানান, বয়স্ক নেতাদের একটি দাবির মধ্যে আছে যদি ৩৫ বছর বয়সীরা ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিতে পারে তাহলে আমরা ৩৮ বছর/৪০ বছরের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? সে ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়স সীমা করা হোক। এই বিষয়টি হয়তো দলের হাইকমাণ্ড বিবেচনা করে দেখবেন। এই বছর যদি ৩০ বছর বয়সীমা বাস্তবায়ন করাও না যায় তাহলে পরের কমিটিতে সেটি বাস্তবায়ন করা হতে পারে। এধরনের পরিকল্পনাও হাইকমাণ্ডের আছে।
রোববার ১৫ জুলাই ছাত্রদলের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রনেতা শামসুজ্জামান দুদু।
তিনি বলেন, নব উদ্যমে ছাত্রদলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছি। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ সরাসরি নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন, বাছাই ও আপিল কমিটি করা হয়েছে। ভোটার তালিকা প্রকাশ করাসহ পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে দুদু বলেন, বিবাহিতরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তারা তো ছাত্রের মধ্যেই পড়ে না। প্রার্থীদের ২০০০ সালে এসএসসি এবং রেজিস্ট্রেশন ১৯৯৮ সাল হতে হবে।
পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন ছাত্রদলের কাউন্সিলের তফসিল ঘোষণা করেন।







