গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে সন্ত্রাসীদের নিমূর্লের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার মুখে এই হামলাকে ‘দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে তা প্রতিহতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এমনটি বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আস্থা রাখুন, সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করব।’
পবিত্র রমজান মাসে এই ধরনের হামলার মাধ্যমে হামলাকারীরা ধর্ম ও মানবতাকে অমর্যাদা করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামের নামে হত্যা বন্ধ করুন। ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করবেন না।”
হামলার জন্য দেশি-বিদেশি চক্রকে দায়ী করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশি-বিদেশি একটি চক্র দেশের অগ্রযাত্রা বানচাল করার চেষ্টায় লিপ্ত আছে। অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করে এরা দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করাতে চায়। গণতান্ত্রিক পথে মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়ে এরা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। কোমলমতি যুবক-কিশোরদের ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে মানুষ হত্যা করছে। যেকোনো মূল্যে সরকার এই ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত প্রতিহত করবে।
এছাড়াও হামলার ঘটনায় সরকারের গৃহিত দ্রুত পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। র্যাব-পুলিশের সদস্যরা সেখানে দ্রুত পৌছায়। সকালে ৩ বিদেশীসহ ১৩ জন জিম্মিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করকে সক্ষম হয়।
প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস মোকাবেলায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনগণের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের আচরণের প্রতি খেয়াল রেখে তাদের সঠিক পথে রাখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
পুলিশ-র্যাব-সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি। এছাড়াও একতা ও সংহতি প্রকাশের জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
হামলায় নিহত দেশী-বিদেশী নাগরিক এবং পুলিশের দুই শীর্ষ কমকর্তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি। আহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতিও জানান গভীর সমবেদনা।
শুক্রবার রাত নয়টার দিকে গুলশানের হলে আর্টিজান রেস্টুরেন্টে ঢুকে হামলা
চালায় ৭ জনের একটি জঙ্গি দল। তলোয়ার ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তারা
রেস্টুরেন্টে ঢুকে সেখানে থাকা মানুষদের জিম্মি করে। পরে পুলিশ উদ্ধার কাজে
নামলে জঙ্গিদের ছোঁড়া গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের আঘাতে নিহত হন বনানী থানার
ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ খান এবং ডিবির এসি রবিউল ইসলাম।
দীর্ঘ চেষ্টার
পর ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে শনিবার
সকালে সাড়ে বারো মিনিটের যৌথ অভিযানে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৬ জঙ্গি নিহত হয়,
পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয় একজনকে। অভিযান শেষে রেস্টুরেন্টের ভেতর
থেকে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আগের রাতেই গলাকেটে ও গুলি করে তাদের
হত্যা করে জঙ্গিরা।







