সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার নিহাদুজ্জামান কিছুটা সুস্থ হয়ে হালকা অনুশীলন শুরু করতে পেরেছেন। মঙ্গলবার নিহাদের মাথা ও কপালের ১২টি সেলাই কাটা হয়। ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরীর পরামর্শে তিনি অনুশীলন শুরু করতে পারলেও পুরোপুরি মাঠে ফিরতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।
১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন নিহাদ।
রাজশাহীতে নিজের বাসা থেকে নিহাদুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘সেলাই কাটানোর পর দেবাশিষ স্যার আমাকে মাঠে নেমে নিজের শারীরক অবস্থা যাচাই করতে বলেন। মঙ্গলবার তা করার পর আরও দু-একটি পরীক্ষা করা হয় আমার। বড় কোনো সমস্যা না আবার অনুশীলনে ফিরছি। আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জাতীয় লিগের প্রথম ম্যাচটাও খেলতে চাই।
তবে তিনি জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ড নাও খেলতে পারেন বলে বোর্ড কর্মকর্তারা মনে করছেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে নামতে নামতে কয়েকদিনের বিরতির পর দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হয়ে যাবে।
সদ্য শেষ হওয়া বিসিবি’র এইচপি (হাই-পারফর্মেন্স) ইউনিটের সদস্য ছিলেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার।
ছুটি কাটাতে ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের কাছে দুর্ঘটনার শিকার হন নিহাদুজ্জামান। একই বাসে ছিলেন নিহাদের বন্ধু রাজশাহীর আরেক ক্রিকেটার নাইম ইসলাম জুনিয়র। তিনিও পায়ে আঘাত পান।
নিহাদ বলেন, আমাদের বাসটি আরেকটি বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বদ্বিতা করছিলো। আমরা বিষয়টি দেখছিলাম। সতর্কও করছিলাম। এক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ততোক্ষণ পর্যন্ত আমি অক্ষতই ছিলাম। কিন্তু পেছন থেকে আরকেটি ট্রাক প্রচণ্ড জোড়ে আঘাত করলে আর শেষ রক্ষা হয়নি।
এই দুর্ঘটনায় নিহত হন সাত যাত্রী। নিহাদুজ্জামানসহ প্রায় ৪০ জন আহত হন।
মাথায় মারাত্মক আঘাত পান নিহাদ। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় তার। পরে নাঈমের সঙ্গেই আরেকটি বাসে করে নাটোরের বনপাড়ার হাসপাতালে যান নিহাদুজ্জামান। সেখান থেকে পরে রাজশাহী ইসলামী হাসপাতালে ভর্তি হন।
নিহাদুজ্জামানের মাথায় তিন জায়গায় ফেটে যায়। মাথার পেছন দিকে সেলাই লাগে ৬টি, কপালে দুটি ও বাম ভ্রুর ওপরে আরো চারটি সেলাই পড়ে। শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে রাজশাহীতে গ্রামের বাড়িতে যান নিহাদুজ্জামান।







