হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধ কৌশল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলেও, এটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমেরি বলেন, অবরোধ চালানো সম্ভব এবং এটি সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ।
তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক চাপ প্রয়োগ করে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার চেয়ে এই পদ্ধতি অনেক নিরাপদ।
কেন অবরোধ কৌশল বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
সম্প্রতি আলোচিত বিকল্পগুলোর মধ্যে ছিল—
- খার্গ দ্বীপ দখল
- হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ বহরকে সামরিক নিরাপত্তা দেওয়া
তবে এসব পদক্ষেপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত, কারণ এতে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌ হামলার মুখে পড়ত। অপরদিকে, অবরোধের মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো দূর থেকে নিরাপদ অবস্থানে থেকে জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
কীভাবে কাজ করবে অবরোধ
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে—
- ইরানের বন্দরগামী ও বন্দর ত্যাগকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করা হবে
- অন্য দেশের বন্দরগামী জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না
- মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজ অনুমতি পাবে, তবে তল্লাশি করা হবে
মূল লক্ষ্য: ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করা
যুদ্ধ চলাকালে ইরান তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা বিপুল অর্থ আয় করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সফল অবরোধ হলে এই আয় বন্ধ হয়ে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
ইরানের পাল্টা কৌশল
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে চাপ সহ্য করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ডেভিড স্যাটারফিল্ড বলেন, ইরান মনে করে তারা এই চাপ মোকাবিলা করতে পারবে এবং তেলের দাম বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাই শেষ পর্যন্ত চাপে পড়বে।
জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা
মেরিটাইম বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, কিছু জাহাজ ইতোমধ্যে পথ পরিবর্তন করেছে। অনেক নাবিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। লয়েডস লিস্ট-এর তথ্যে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর কয়েকটি জাহাজ ইউ-টার্ন নিয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে অনেক জাহাজ প্রণালী ছাড়ার চেষ্টা করেছে।
‘দুই অবরোধের লড়াই’
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, একদিকে ইরান নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ আরোপ করছে। ফলে এটি এখন কার্যত “দুই অবরোধের লড়াই”, যার মাঝে আটকে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি।
চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি তেল আমদানিকারক চীন এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, এই অবরোধ চীনের ওপরও চাপ তৈরি করবে, যাতে তারা ইরানকে আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ একটি বড় ধরনের কৌশলগত জুয়া। এর ফলাফল নির্ভর করবে—ইরান কতটা চাপ সহ্য করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় তার ওপর।







