সামনে গোলরক্ষক সেই ক্লদিও ব্র্যাভো, পেনাল্টি স্পটে সেই লিওনেল মেসি। কিকটা নেওয়ার আগে এক ঝটকায় বছর খানেক পিছনের স্মৃতি আওড়ানো মেসির জন্য তখন অস্বাভাবিক নয়! গত বছর শতবর্ষী কোপা আমেরিকার ফাইনাল, টাইব্রেকারে বলটা আর মেসির কথা শুনল না, উড়িয়ে চলে গেল বারের অনেকটা ওপর দিয়ে। আর্জেন্টিনারও ফাইনাল জেতা হলো না। এবার অবশ্য তেমন হলো না। শুক্রবার ভোরে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের ঠাণ্ডা মাথার এক শটেই চিলিকে হারিয়ে লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টেবিলের তিনে উঠে এসেছে এগার্ডো বাউজার দল।
ম্যাচটা যতটা না আর্জেন্টিনার জন্য কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের প্রতিশোধের ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার টানা-পোড়েনের। তাতে মেসির একমাত্র গোলটি চিলির বিস্বাদের কারণ হয়ে থাকল।
বুয়েন্স আয়ার্সে ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট ছিল স্বাগতিকদের। সপ্তম মিনিটে অবশ্য উল্টো রথের দেখা মিলেছিল। তখন পিছিয়ে পড়তে পারতো আর্জেন্টিনা। অ্যালেক্সিস সানচেজের ক্রসে হোসে ফুয়েনসালিদার হেড মেসিদের জালে ঢুকেছিল চার্লস আরানগিসের পা ঘুরে। কিন্তু সেটি অফসাইডের খাড়ায় বাতিলের খাতায় নাম লেখালে স্বস্তি মেলে স্বাগতিকদের।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে মেসির দূরপাল্লার শটে ডি মারিয়া চিপ করার পর দেয়াল হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক ব্র্যাভো। তার দুই মিনিট পর মেসির পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। বল নিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়া ডি মারিয়াকে বাজেভাবে ফেলে দিয়েছিলেন অতিথিদের হোসে ফুয়েনসালিদা। পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি ব্রাজিলিয়ান রেফারি। জাতীয় দলের জার্সিতে যেটা মেসির ৫৮তম গোল।
প্রথমার্ধের শেষদিকে নিকোলাস ওটামেন্দি মেসির ফ্রি-কিকে গোলের একেবারে সামনে বল পেয়েও জাল খুঁজে নিতে পারেননি। ম্যানচেস্টার সিটির এই ডিফেন্ডারের সুযোগ হাতছাড়ার আগেপিছে আরো কয়েকটি আক্রমণ চালিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
মধ্যবিরতির পর মিডফিল্ডার হোর্হে ভালদিভিয়াকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় চিলি। এসময় সানচেজের একটি ফ্রি-কিক পোস্ট দুর্ভাগ্যে কাটা পড়ে। গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর একটি প্রচেষ্টায় একদফা বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। অতিথিদের ডি-বক্সের ভেতর থেকে মেসির একটি আলতো টোকাও জাল খুঁজে নিতে পারেনি। দুদলের আরো কয়েকটি সুযোগ তৈরি আর হাতছাড়ার মধ্য দিয়ে মেসির ওই এক গোলেই সমাপ্তি ঘটে ম্যাচের।
লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এই জয়ে আলবিসেলেস্তারা ২২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে উঠে এসেছে।
অন্য ম্যাচে পাউলিনহোর হ্যাটট্রিক ও নেইমারের এক গোলে উরুগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। সেলেসাওরা ৩০ পয়েন্ট নিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে।
উরুগুয়ে সেখানে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে আছে। আর হামেস রদ্রিগেজের একমাত্র গোলে বলিভিয়াকে হারানো কলম্বিয়া ২১ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে। প্যারাগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বসা ইকুয়েডর ২০ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে এবং চিলি ২০ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে।
কনমেবল অঞ্চলের ১০টি দেশের মধ্যে টেবিলের শীর্ষ চারটি দল সরাসরি রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নেবে। পঞ্চম দলটিকে দিতে হবে বাড়তি পরীক্ষা। প্লে-অফে খেলতে হবে ওশেনিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে।










